গরম চা-কফিতেও ক্যান্সারের ঝুঁকি
ধূমপান কিংবা মদ্যপান ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে বহুল পরিচিত হলেও, আমাদের দৈনন্দিন একটি অভ্যাসেও লুকিয়ে রয়েছে একই রকম বড় ঝুঁকি। আর তা হলো অতিরিক্ত গরম চা বা কফি পান করা। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়ম বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন।
ভুল ধারণা বনাম আসল ঝুঁকি
চিকিৎসক প্রিয়ম বরদলই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কুইজের মাধ্যমে চার ধরনের অভ্যাসের কথা তুলে ধরেন— আন্ডারআর্মসে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার, প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখা, নিয়মিত অত্যন্ত গরম চা-কফি পান করা এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার পুনরায় গরম করা।
অনেকের ধারণা মোবাইল ফোন বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ব্যবহারের ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে চিকিৎসক স্পষ্ট জানান, এই ধারণাটি ভুল। এসব ডিভাইস থেকে 'নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন' নির্গত হয়, যা মানবকোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। একই সঙ্গে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সরাসরি কোনো জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকের মতে, আসল ঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে অতিরিক্ত গরম পানীয় পানের নিয়মিত অভ্যাসে।
গরম পানীয় কীভাবে খাদ্যনালির ক্ষতি করে?
অত্যন্ত গরম চা বা কফি নিয়মিত খেলে তা সরাসরি খাদ্যনালির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত গরম পানীয় খাদ্যনালির অভ্যন্তরীণ পাতলা আস্তরণ বা 'স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম' (Squamous Epithelium) পুড়িয়ে ফেলে এবং কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ক্ষতিগ্রস্ত কোষের জায়গায় শরীরকে অনবরত নতুন কোষ তৈরি করতে হয়। বারবার কোষ বিভাজনের কারণে DNA রেপ্লিকেশনের (DNA replication) সময় ত্রুটি বা পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই প্রক্রিয়ার ফলে খাদ্যনালিতে দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক প্রদাহ তৈরি হয়।
এই ক্রমাগত কোষের অনিয়ন্ত্রিত পুনর্গঠন থেকেই খাদ্যনালির বিশেষ ধরনের ক্যান্সার, যা 'এসোফেজিয়াল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা' (Esophageal squamous cell carcinoma) নামে পরিচিত, তার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও মদ্যপানের পাশাপাশি ফুটন্ত চা বা কফি পানের তীব্র অভ্যাস থেকেও বিরত থাকা জরুরি। চা বা কফি কাপে ঢালার পর তা কিছুটা ঠান্ডা হতে দেওয়া উচিত। পানীয় সহনশীল তাপমাত্রায় এলে তবেই পান করা উচিত, যাতে খাদ্যনালির স্পর্শকাতর কোষগুলো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।