ঠান্ডায় ফুটো হতে পারে কানের পর্দা?
সাধারণ সর্দি-কাশি কিংবা কানের কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে কানের পর্দা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি অসতর্কতার ফলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। কানের গঠন, পর্দা ফুটো হওয়ার কারণ, লক্ষণ এবং তা থেকে বাঁচতে চিকিৎসকের পরামর্শের আলোকেই এই বিবরণ।
কানের পর্দা ফুটো হওয়ার মূল কারণসমূহ: ১. সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ (অ্যাকিউট ওটাইটিস মিডিয়া), নাক ও গলার সঙ্গে কানের সংযোগকারী একটি সোজা নালি রয়েছে, যাকে ‘ইউস্টাচিয়ান টিউব’ বলা হয়। এটি কানের ভেতর বাতাসের চাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। সর্দি-কাশি হলে নাক ও গলার জীবাণু এই নালির মাধ্যমে সহজেই মধ্যকর্ণে পৌঁছে যায়। বারবার সংক্রমণ হলে কানের পর্দার ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং জল বা পুঁজ জমে পর্দা ফুলে ফুটো হয়ে যায়।
২. অনভ্যাস ও ভুল পরিচর্যা, নিয়মিত ইয়ারবাড বা কাঠি দিয়ে কান খোঁচানো, কানের ভেতর সুড়সুড়ি দেওয়া, তেল ঢালা কিংবা সঠিক নিয়ম না মেনে কান পরিষ্কার করা কানের ক্ষতি বাড়ায়। নিয়মিত কান খোঁচালে কানের ভেতরের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঘা হয় এবং ২-৩ মাস পর কান দিয়ে রস গড়িয়ে পর্দা ফুটো হয়ে যেতে পারে।
৩. আকস্মিক আঘাত বা বিকট শব্দ, কানের কাছে সজোরে চড় মারলে, বাজ পড়লে কিংবা কানের কাছে বাজি-বোমার মতো বিকট শব্দ হলে কানের পর্দা মুহূর্তেই ফেটে চৌচির হয়ে যেতে পারে। বাতাসের অতিরিক্ত চাপ ও শব্দের তীব্রতা কান সহ্য করতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা সহজে জোড়া লাগতে চায় না।
কখন সতর্ক হবেন? (উপসর্গ) : কান দিয়ে অনবরত জল, রস বা পুঁজ নির্গত হওয়া। শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে কম শোনা। কানের ভেতরে বারবার ঘা বা অস্বস্তি হওয়া।
চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার
স্বাভাবিক নিরাময়- কানের ছোট ছিদ্র বা সাধারণ সংক্রমণের ক্ষেত্রে সংক্রমণ সেরে গেলে পর্দা অনেক সময় নিজে থেকেই জুড়ে যায়। মাইরিঙ্গোপ্লাস্টি (Myringoplasty)- কান দিয়ে বারবার পুঁজ বেরোলে এবং ক্ষত না শুকালে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। সে ক্ষেত্রে ‘মাইরিঙ্গোপ্লাস্টি’ নামের একটি ছোট প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে কানের পর্দার ফুটো জোড়া দেওয়া হয়। অসচেতনতার ঝুঁকি- সময়মতো চিকিৎসা না করালে সংক্রমণ মধ্যকর্ণ থেকে অন্তঃকর্ণে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে অস্ত্রোপচার যেমন জটিল হয়ে ওঠে, তেমনি স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর আশঙ্কা থাকে।
প্রতিরোধের উপায় : সর্দি-কাশি হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ বা নাকের ড্রপ ব্যবহার করুন, যাতে সংক্রমণ কানে না পৌঁছায়। কানের ভেতর ইয়ারবাড, কাঠি বা কোনো ধারালো জিনিস ঢোকানো সম্পূর্ণ বন্ধ করুন। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, তাই এই সময়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকুন। কান দিয়ে রস বা পুঁজ নির্গত হতে দেখলে দ্রুত ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।