রংপুরে সাবেক শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জনকে হত্যা: গ্রেপ্তার ২, চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম
Main News Image

রংপুর নগরীর দাসপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত অন্য সদস্যরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাঁদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ১২ বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী। শনিবার রাতে বন্ধ ঘর থেকে পচনধরা মরদেহগুলো উদ্ধারের পর, ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে আটকের পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, তারা দুইজনই সরাসরি এই চার খুনে জড়িত ছিল।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ ও রংপুরের ডিবি ডিসি সনাতন চক্রবর্তী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন। তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজন পরস্পর আত্মীয় ও তাদের মধ্যে একজন স্থানীয় একটি স্বর্ণের দোকানের কারিগর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে এবং সেখানে ইয়াবা সেবন করতে থাকে। এ সময় ছাদ থেকে হঠাৎ শব্দ শুনে গণপতি স্যার খালি গায়ে উপরে উঠে যান এবং তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতকেরা তাঁর গলার গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে সেখানেই তাঁকে হত্যা করে।

এরপর ওপরের শব্দ পেয়ে প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে উঠে আসার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে গামছা পেঁচিয়ে তাঁকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মায়ের আকুতি ও চিৎকার শুনে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। সবশেষে ১২ বছরের ছোট ছেলে প্রিয়মকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আসামিরা।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পরপর চারটি নৃসংশ খুন করার পরও ঘাতকদের আচরণ ছিল অস্বাভাবিকরকম স্বাভাবিক ও ঠান্ডা মাথার। হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাসার ভেতরেই ছোট ছেলের বাথরুমে ঢুকে গোসল করে। এরপর ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও ফ্রিজ থেকে শসা বের করে নিশ্চিন্তে খায় এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। ভোর পেরিয়ে সকাল হওয়া পর্যন্ত বের হওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় তারা অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ওই বাড়িতেই অবস্থান করছিল।

প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তারা বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডার মিশ্রিত বালতির পানিতে ভিজিয়ে রাখে এবং পুরো ঘরের জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে দেয়। পরবর্তীতে জুমার নামাজের সময় সুযোগ বুঝে লুট করা স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং সেগুলো একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ইয়াবার আলামত, শসা ও পোড়া চুড়ির সূত্র ধরে নিখুঁত তদন্ত চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা নিজেদের অপরাধ অকপটে স্বীকার করেছে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।