সাকুরা ও হানামি: ক্ষণস্থায়ী সৌর্ন্দযরে আখ্যান

ফেরদৌস সিদ্দিকী
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
Main News Image

ঋতুচক্রে জাপানে বসন্ত যনে ধরা দয়ে রূপকথা হয়। এই ঋতু কবেল প্রকৃতরি পরর্বিতনরে সময় নয়, এটি জাপানদিরে কাছে এক পরম অনুভূতরি নাম। এখানে শীতরে রুক্ষতা কাটয়িে প্রকৃতি নতুন সাজে সজেে ওঠে প্রকৃতি। আকাশ-বাতাস মোহনীয় হয়ে ওঠে গোলাপি আর সাদার এক অদ্ভুত মশিলে। এই মায়াবী রূপরে কারগির ‘সাকুরা’ বা চরেি ফুল। সাকুরা দখেতে এখানে রীতমিত উৎসব হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই উৎসবরে পরচিতিি ‘হানামি’নামে। এই ঐতহ্যি জাপানদিরে জীবনরে এক অবচ্ছিদ্যে অংশ হয়ে উঠছে। বলা হয়ে থাকে, যদি কউে জাপানে গয়িে একবারও হানামি উৎসবে যোগ না দনে, তবে তার জাপান ভ্রমণ অর্পূণ রয়ে যায়।

সাকুরার আদি ইতিহাস

সাকুরা নামরে ব্যুৎপত্তি ও এর পছেনরে ইতহিাস জাপানদিরে প্রাচীন কৃষি সংস্কৃতরি সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রাচীনকালে জাপানি কৃষকরা ছলিনে প্রকৃত-িপূজারী। তারা বশ্বিাস করতনে যে চরেি ফুলরে প্রস্ফুটন কবেল একটি সাধারণ প্রাকৃতকি ঘটনা নয়, বরং এটি তাদরে গ্রামে ‘ধানক্ষতেরে দবেতা’র আগমনরে সংকতে। এই বশ্বিাসরে ওপর ভত্তিি করে ‘সাকুরা’ নামরে একটি চমৎকার ও কাব্যকি ব্যাখ্যা রয়ছে। ভাষাতাত্ত্বকি ও নৃতাত্ত্বকি বশ্লিষেণ অনুযায়ী, ‘সা’ শব্দটি দয়িে ধানক্ষতেরে দবেতাকে বোঝানো হতো এবং ‘কুরা’ মানে হলো ‘দবেতার বসার আসন’। র্অথাৎ, সাকুরা গাছগুলো ছলি সইে পবত্রি স্থান, যখোনে বসন্তরে শুরুতে দবেতা এসে অধষ্ঠিতি হতনে। এই পবত্রি বশ্বিাস থকেইে কৃষকরা চরেি গাছরে নচিে বশিষে ভোজরে আয়োজন করতনে। এই ভোজ ছলি মূলত দবেতাকে সন্তুষ্ট করার এবং আসন্ন মৌসুমে ভালো ফসলরে জন্য র্প্রাথনা করার একটি র্ধমীয় আচার। সময়রে সাথে সাথে এই র্ধমীয় আচারটি সাধারণ মানুষরে বনিোদনে যুক্ত হয়ে এক সামাজকি উৎসবে রূপান্তরতি হয়, যা আজকরে ‘হানামি।

দার্শনিক গভীরতা 

জাপানি সংস্কৃততিে সাকুরা কবেল নান্দনকিতার প্রতীক নয়, বরং এর পছেনে রয়ছেে গভীর জীবনর্দশন। সাকুরা ফুল বছরে মাত্র একবার ফোট।ে এর স্থায়ত্বিকাল অত্যন্ত সংক্ষপ্তি,মাত্র দুই সপ্তাহ। এই সংক্ষপ্তি জীবনকাল জাপানদিরে মনে করযি়ে দযে় যে পৃথবিীর কোনো কছিুই চরিস্থায়ী নয়। এই র্দশনটি জাপানি ঐতহ্যিরে বখ্যিাত নীতি ‘ইচগিো-ইচ’ি এর সাথে সরাসরি যুক্ত। ‘ইচগিো-ইচ’ি শব্দরে র্অথ হলো ‘এক সুযোগ, এক সাক্ষাৎ’। এটি মানুষকে শক্ষিা দযে় যে প্রতটিি মুর্হূত বা প্রতটিি মলিন অনন্য এবং তা পুনরায় আর কখনো ফরিে আসবে না। সাকুরার ঝরে পড়া পাপড়গিুলো জাপানদিরে শখোয় জীবনরে প্রতটিি মুর্হূতকে শ্রদ্ধা ও আনন্দরে সাথে গ্রহণ করত।ে কারণ সৌর্ন্দয যত বশিালই হোক না কনে, তার শষে অনবর্িায। এই র্দশনটি জাপানদিরে ‘মনো নো আওয়ার’ে নামক নান্দনকি চতেনার সাথওে যুক্ত, যা দুঃখরে মধ্যওে সৌর্ন্দযরে উপস্থতিি অনুভব করতে শখোয়।

এছাড়া, সাকুরা ফোটার সময়টি জাপানরে জন্য অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ একটি সন্ধক্ষিণ। জাপানে নতুন শক্ষিার্বষ এবং র্অথবছর শুরু হয় সাধারণত র্মাচ বা এপ্রলি মাস।ে সাকুরা যহেতেু এই সময়ইে ফোট,ে তাই একে একটি ‘নতুন শুরু’র (শুভ প্রতীক হসিবেে দখো হয়। হানামি পালনরে মাধ্যমে জাপানরিা জীবনরে প্রতটিি নতুন অধ্যায়রে জন্য সফল এবং সুন্দর আগামীর শুভকামনা করে থাকে।

হানামির রসনাবিলাস

একটি আর্দশ হানামি উৎসব র্পূণতা পায় এর ঐতহ্যিবাহী খাবাররে মাধ্যম।ে জাপানরিা হানামরি জন্য বশিষে ধরনরে খাবার তরৈি করে যা সহজে অন্যদরে সাথে ভাগ করে খাওয়া যায় । এই খাবারগুলো শুধু স্বাদরে জন্য নয়, বরং বসন্তরে রঙরে সাথে সামঞ্জস্য রখেে তরৈি করা হয়।

হানামি বন্তেো বা এক ধরনরে লাঞ্চ বক্স যা বাড়তিে তরৈি করা যায় অথবা দোকান থকেে কনো যায়। এতে থাকে মাকজিুশি (সুশি রোল), ইনারজিুশি (ভাজা তোফুর আবরণে সুশি ভাত), এবং তামাগোয়াকি (জাপানি স্টাইল মষ্টিি অমলটে)। এছাড়া এতে ‘কামাবোকো’ বা মাছরে তরৈি পঙ্কি ও সাদা রঙরে ফশি ককে অর্ন্তভুক্ত থাকে, যা বসন্তরে রঙরে সাথে নখিুঁতভাবে মশিে যায় ।

ভাজা ও গ্রলি করা পদ যগেুলো চপস্টকি দযি়ে সহজে খাওয়া যায় এমন খাবাররে মধ্যে ‘কারা-আগ’ (জাপানি ফ্রাইড চকিনে), ‘তাকোয়াকি’ (অক্টোপাস বল), এবং ‘এব-িফ্রাই’ (চিংড়ি ফ্রাই) অন্যতম ।

পকিনকিরে প্রাণ ওনগিরিি তো আছইে। এই বলগুলো ধান বা ভাতরে তরৈ।ি হানামি মৌসুমে লবণে ভজোনো চরেি ফুল দযি়ে ‘সাকুরা ওনগিরি’ি তরৈি করা হয়, যা ভাতে এক অনন্য সুগন্ধ যোগ কর।ে

হানামরি মষ্টিরি মধ্যে সবচযে়ে বখ্যিাত ‘সাকুরা মোচ’ি। এটি একটি ভাতরে ককে যার ভতের মষ্টিি লাল মটরশুঁটরি পস্টে থাকে এবং বাইরে লবণে ভজোনো চরেি পাতা দযি়ে মোড়ানো থাক।ে এছাড়া আছে ‘হানামি ডাঙ্গো’—বাঁশরে কাঠতিে আটকানো গোলাপ,ি সাদা ও সবুজ রঙরে তনিটি মষ্টিি ডাম্পলংি। এই তনিটি রঙ জাপানি বসন্তরে খাবাররে একটি সাধারণ থমি।

বসন্তরে প্রধান ফল স্ট্রবরেি হানামি পকিনকিে ব্যাপকভাবে খাওয়া হয় । পানীয়রে মধ্যে রয়ছেে ‘সাক’ে। চরেি গাছরে নচিে বসে সাকে পান করাও একধরণরে ঐতহ্য,ি যাকে বলা হয় ‘হানাম-িজাক’ে। এছাড়া চরেি ফুলরে নকশা করা সীমতি সংস্করণরে বযি়ার এবং সাকুরা ফ্লভোররে চা বা কোল্ড ড্রংিকসও এই সময়ে জনপ্রযি়তা পায় ।

হানামির শিষ্টাচার

হানামি কবেল একটি পকিনকি নয়, এটি জাপানদিরে সুশৃঙ্খল আচরণরে এক অনন্য উদাহরণ। উৎসবে অংশগ্রহণকারীদরে জন্য কছিু নর্দিষ্টি নযি়মাবলী ও শষ্টিাচার রয়ছে,ে যা পালন করা সামাজকি দায়ত্বিরে অংশ। জনপ্রযি় র্পাকগুলো হানামরি সময় অত্যন্ত ভডি় থাক।ে জায়গা সংরক্ষণরে জন্য অনকেইে ভোরবলো গযি়ে প্লাস্টকি ম্যাট বা ‘লজোর শটি’ পতেে রাখনে। নযি়ম হলো, জায়গা দখল করার পর অন্তত একজনকে সখোনে বসে থাকতে হবে যতক্ষণ না দলরে বাকরিা আস।ে

জাপানি সংস্কৃতরি অনুকরণে পকিনকি ম্যাটকওে পরষ্কিার এলাকা হসিবেে গণ্য করা হয়। তাই ম্যাটরে ওপর ওঠার আগে অবশ্যই জুতো খুলতে হব।ে জুতো জোড়া ম্যাটরে কনিারায় ঘাসরে ওপর বাইররে দকিে মুখ করে সাজযি়ে রাখা একটি র্মাজতি আচরণ।

মনে রাখা জরুরি যে হানামি কবেল ‘ফুল দখোর’ জন্য, ছঁেড়ার জন্য নয় । কখনোই ফুল ছঁেড়া বা গাছরে ডাল ভাঙা উচতি নয়, কারণ এতে গাছরে ক্ষতি হয় এবং ভবষ্যিতে রোগাক্রান্ত হওয়ার ভয় থাক।ে এমনকি ভালো ছবরি জন্য গাছে চড়া বা ডাল ধরে টান দওেয়াও সর্ম্পূণ নষিদ্ধি।

র্পাকে উচ্চস্বরে কথা বলে অন্যদরে শান্তি বঘ্নিতি করা অনুচতি। এছাড়া উৎসব শষেে নজিরে ফলেে রাখা সমস্ত আর্বজনা সংগ্রহ করা এবং তা যথাযথভাবে বনিাশ করা বাধ্যতামূলক। জাপানে আর্বজনা পোড়ানোযোগ্য, অপচনশীল এবং পুর্নব্যবহারযোগ্য—এই তনি ভাগে ভাগ করে নর্দিষ্টি বনিে ফলেতে হয় । যদি র্পাকে বনি না থাক,ে তবে ময়লা বাড়তিে নযি়ে যাওয়াটাই জাপানি রীতি ।

ভার্চুয়াল হানামি

প্রযুক্তরি অগ্রগতরি সাথে সাথে এবং বশ্বৈকি মহামারীর মতো কঠনি সময়ে হানামি উদযাপনরে ধরনে নতুন মাত্রা যোগ হয়ছে।ে যখন মানুষরে সরাসরি র্পাকে সমবতে হওয়া কঠনি হয়ে পড়ছেলি, তখন জাপানজুড়ে ‘র্ভাচুয়াল হানাম’ি বা অনলাইনে চরেি ফুল দখোর ধারণা অত্যন্ত জনপ্রয়ি হয়ে ওঠ।ে এই উদ্যোগরে ফলে বখ্যিাত র্পাকগুলোতে না গয়িওে ডজিটিাল মাধ্যমে চরেি ফুলরে অপরূপ সৌর্ন্দয উপভোগ করা সম্ভব হয়ছে।ে

ডজিটিাল হানামি উৎসবরে আনন্দ ভাগাভাগি করতে জাপানরিা সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যমকে বছেে নয়িছেনে। ব্যবহারকারীরা ‘#র্ভাচুয়ালথহানাম’ি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বভিন্নি চরেি ফুলরে ভডিওি ও ছবি শয়োর করছেনে, যা একটি র্ভাচুয়াল কমউিনটিি গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।ে

এছাড়াও জাপানরে বভিন্নি সংস্থা বশিষে ওয়বেসাইট ও ৩৬০-ডগ্রিি ভডিওি’র মাধ্যমে র্ভাচুয়াল হানামরি সুযোগ তরৈি করে দয়িছে।ে ড্রোনরে মাধ্যমে ধারণ করা ফুটজে ব্যবহার করে হরিোসাকি র্পাক বা হমিজেি ক্যাসলেরে মতো বখ্যিাত স্থানগুলো মানুষরে ঘররে র্পদার সামনে নয়িে আসা হয়ছে।ে এভাবে আধুনকি প্রযুক্তি ঐতহ্যিবাহী উৎসবকে এক নতুন উচ্চতা ও বশ্বিজনীন রূপ দয়িছে।ে

উপসংহার

সাকুরা এবং হানামি কবেল জাপানরে ভৌগোলকি সৌর্ন্দয নয়, বরং এটি একটি জাতরি সহষ্ণিুতা, প্রকৃতরি প্রতি ভালোবাসা এবং জীবনরে প্রতটিি ক্ষণকে সম্মান জানানোর নাম। চরেি ফুলরে সইে স্বল্পস্থায়ী কন্তিু তীব্র সৌর্ন্দয আমাদরে এই র্বাতাই দযে় যে জীবন সুন্দর এবং প্রতটিি মুর্হূতই উদযাপনরে যোগ্য। জাপানদিরে এই সংস্কৃতি আজ বশ্বিজুড়ে সমাদৃত এবং প্রতটিি বসন্তে সাকুরা যনে এক নতুন জীবনরে প্রতশ্রিুতি নযি়ে ফরিে আস।ে প্রকৃতরি এই অমর মহোৎসবে অংশগ্রহণ করা মানইে হলো নজিরে ভতেররে সত্তাকে প্রকৃতরি সাথে একাকার করে ফলো।

(ফেরদৌস সিদ্দিকী, পএিইচডি গবষেক, এনভায়রনমন্টোল সায়ন্সে অ্যান্ড টকেনোলজি বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ,জাপান)