প্রতারণা মেনে নেয়া যায় না’: প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শচীন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ এএম
Main News Image

ভারতে সাম্প্রতিক পরীক্ষা ও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ও সততা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন—সাফল্য অর্জনে কোনো অবস্থাতেই অসদুপায় কিংবা শর্টকাটের পথ বেছে নেওয়া যাবে না। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পোস্ট করে তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ বার্তা দেন তিনি।

নিজের পারিবারিক জীবনের কথা উল্লেখ করে শচীন লেখেন, “আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার মনে একটি শিক্ষা গেঁথে দিয়েছিলেন—‘ব্যর্থতা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনও শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।’”

ফলাফলকেন্দ্রিক মানসিকতার সমালোচনা : বর্তমান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে এই বিশ্বসেরা ক্রিকেটার তুলে ধরেন, যে সমাজ কেবল শেষ ফলাফলকে প্রাধান্য দেয়, সেখানে মেধার চেয়ে অসদুপায় বা শর্টকাট খোঁজার প্রবণতা বাড়ে।

ফলাফলের চেয়ে শিক্ষার্থীর সততা ও পরিশ্রমকে মূল্যায়নের ওপর অভিভাবকদের জোর দেওয়া উচিত। পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে কঠোর পরিশ্রমের যোগ্য মূল্যায়ন না পেয়ে শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি হওয়া ক্ষোভকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন শচীন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের তরুণ সমাজ স্বপ্ন ও অফুরন্ত শক্তিতে ভরপুর এবং তারাই দেশের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব।

তরুণদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সমাজ, অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বার্তার শেষাংশে একটি টেকসই সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শচীন লেখেন, “আমাদের এমন একটি সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের মর্যাদা দেয়া হবে, সততাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং চূড়ান্ত বিচারে মেধাই বিজয়ী হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করবে এবং তাদের সকল স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত রাখবে।”