ফাইনাল শেষে সংঘাত: ফিফার তদন্তে আর্জেন্টিনা, হতে পারে শাস্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ এএম
Main News Image

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়ার পর মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনা দল। শেষ বাঁশি বাজার পরই ক্ষোভ আর উত্তেজনার বশে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন আলবিসেলেস্তেদের একাধিক সদস্য। এই নৈরাজ্যকর আচরণের জেরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং জড়িত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি।

মাঠের অনভিপ্রেত ঘটনা ও সংঘাতের সূত্রপাত : ম্যাচ শেষ হতেই স্পেনের উদযাপনের মাঝে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তার বাহু বা পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেখান থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

স্পেনের এরিক গার্সিয়া সতীর্থকে সমর্থন দিতে এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস তার গলায় হাত দেন এবং চড়াও হন। স্প্যানিশ বদলি খেলোয়াড় গাভি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে থিয়াগো আলমাদা তাকে মাটিতে ফেলে দেন। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকেও স্প্যানিশ ফুটবলারদের গলার কাছে ধরে থাকতে ও আক্রমণ করতে দেখা যায়। ম্যাচে যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষে পারেদেসকে প্রথমে লাল কার্ড দেখানো হলেও পরে তা নথিপত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার প্রয়োগ ও আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার সার্বিক মূল্যায়নে ফিফা একজন বিশেষ শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ (আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে) অনুযায়ী, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও স্টাফদের এই কর্মকাণ্ডকে "শোভন আচরণের মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন" এবং "ফুটবল ও ফিফার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী আচরণ" হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

এছাড়া, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর 'ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার' রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের দায়েও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, জিওভানি লো সেলসো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বিরুদ্ধে ফিফার আলাদা শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া আগে থেকেই চলমান রয়েছে।

সম্ভাব্য শাস্তি ও পরিণতি : ফিফা প্রসিকিউটরের পর্যালোচনা শেষে আর্জেন্টিনার ওপর কঠোর আর্থিক ও ক্রীড়াভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে- এএফএ-কে জরিমানা: অতীতে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা (যেমন ২০২২ বিশ্বকাপ উদযাপন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন) বিবেচনায় নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থাকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে। খেলোয়াড় ও কোচের ওপর নিষেধাজ্ঞা: সরাসরি সহিংসতার প্রমাণ মিললে পারেদেস, মোলিনা, আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। বৈশ্বিক স্থগিতাদেশ: শৃঙ্খলা কমিটির বৈশ্বিক পর্যায়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পরাজয় মেনে নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করলেও সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকরা আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচ-পরবর্তী আচরণকে "জঘন্য" বলে আখ্যা দিয়েছেন। পূর্বে লুইস সুয়ারেজ বা লুইস রুবিয়ালেসের ঘটনায় ফিফা যেভাবে অটল অবস্থান দেখিয়েছিল, তা বিবেচনায় নিলে এবারও আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদী শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন।