উন্মোচিত হলো বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন জার্সি
আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল নতুন জার্সি।
নতুন জার্সি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সহজলভ্য করতে সারা দেশে ১৩৫টি ইনফিনিটি স্টোরে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ঢাকার বনানীতে DOUR-এর নিজস্ব একটি শপের মাধ্যমেও বিক্রি করা হবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল জার্সি। দেশের বাজারের পাশাপাশি ইউরোপের বাজারেও পাওয়া যাবে বাংলাদেশের নতুন জার্সি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে DOUR ইতোমধ্যে জাতীয় দলের জার্সিকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের জার্সি FIFA Museum-এ স্থান পেয়েছে, সিঙ্গাপুরের খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে এবং বর্তমানে ইউরোপের বাজারেও Classic Football Shirts-এর মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি দলের জন্য বছরে ৪০০ সেট করে ছয়টি দলের জন্য মোট ২,৪০০ সেট জার্সি সরবরাহের কথা থাকলেও ২০২৫ সালে DOUR বাফুফেকে ১৬,৩৫০টিরও বেশি জার্সি, ট্র্যাকস্যুট, পোলো শার্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ করেছে।
উক্ত জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ আমিনুল হক, বাফুফে সভাপতি জনাব তাবিথ আউয়াল, DOUR এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এন্ড সিইও জনাব আবিদ আলম চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সহ-সভাপতিবৃন্দ ও কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, "আমরা যখন খেলেছি, তখন জার্সি উন্মোচন বা ব্র্যান্ডিং নিয়ে আমরা এত কিছু ভাবতাম না। কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে একটি জার্সি বানিয়ে দিতেন, আমরা সেটা পরে মাঠে নেমে যেতাম। আজ সেই বাংলাদেশের জার্সি সারা বিশ্বে পরিচিত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জার্সিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসুন। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, আর এই উদ্যোগে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।"
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, "জার্সিটা কিন্তু আমাদের আরেকটা পতাকা। এই জার্সিটা আপনারা দেখেছেন, ঢাকা স্টেডিয়াম, সিঙ্গাপুর স্টেডিয়াম, হংকং স্টেডিয়াম এবং জাস্ট রিসেন্টলি সান মারিনোর স্টেডিয়ামে। সবাই যখন একই সাদা জার্সি পরে, একই লাল জার্সি পরে, অথবা গ্রিন জার্সি পরে স্টেডিয়ামে যায়, তখন এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে ঐ দেশের, ঐ ফ্যানদের কাছে বাংলাদেশ একটা বড় দল হয়ে ওঠে। আমাদের আরেকটা বড় অস্ত্র হলো আমাদের জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যার কারণে অনেক দেশ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে চায়। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে খেললে তাদের টিকিট বিক্রি বাড়ে, হসপিটালিটি বাড়ে। বাংলাদেশের মতো ক্রেজি ফ্যান এখন পৃথিবীতে খুব কম আছে। বাংলাদেশের ফ্যানরা আগে ব্রাজিলকে এগিয়ে নিয়েছে, যেটা ব্রাজিলও স্বীকার করে। আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিয়েছে, যেটা আর্জেন্টিনাও স্বীকার করে। এখন তারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।