বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির সঙ্গে প্রতারণা ও আর্জেন্টিনার পরাজয়
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর এক আবেগঘন ও বিধ্বস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৩৯ বছর বয়সী ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি শিরোপাহীনভাবে শেষ হওয়ায় তাকে মাঠেই অশ্রুসিক্ত ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত দেখায়। স্পেনের কিশোর তারকা লামিন ইয়ামালের শিরোপা জয়ের উল্লাসের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ছিল আর্জেন্টিনার শিবিরে।
ভুল কৌশল ও আগ্রাসী মনোভাব: প্রধান ফুটবল বিষয়ক লেখক ফিল ম্যাকনালটির মতে, আর্জেন্টিনা দল ফুটবল খেলার চেয়ে ফাউল ও মারমুখী আচরণে বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের এই নেতিবাচক ও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশল মেসিকে ম্যাচ জুড়ে কার্যত একজন নিষ্ক্রিয় দর্শক বানিয়ে রেখেছিল, যা এক প্রকার মেসির প্রতিভাকে 'প্রতারিত' করার শামিল।
খেলোয়াড়দের বিশৃঙ্খল আচরণ: ম্যাচ জুড়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম হতাশা ও আগ্রাসন লক্ষ্য করা গেছে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ফাউলের পর অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ শেষে বদলি খেলোয়াড় লেয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সাথে অশোভন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
লজ্জাজনক পরিসংখ্যান: বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা প্রথম দল হিসেবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের উদ্দেশ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। পুরো ম্যাচে স্পেনের ১২টি অন-টার্গেট শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনার শট ছিল শূন্য (১১৭ মিনিটে মেসির নেওয়া একমাত্র শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়)। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের বক্সে পাস দেওয়ার চেয়ে ফাউল করেছে বেশি (পাস ৮টি, ফাউল ৯টি)।
কোচের প্রতিক্রিয়া ও মেসির শ্রেষ্ঠত্ব: টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজের ভবিষ্যৎ ও মেসির বিদায় প্রসঙ্গে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে ম্যাচের এমন অপ্রীতিকর ও হতাশাজনক সমাপ্তি সত্ত্বেও, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জাদুকর হিসেবে লিওনেল মেসির শ্রেষ্ঠত্ব চিরস্মরণীয় থাকবে।