চার সেমিফাইনালিস্টের অন্য যুদ্ধ!

সানজীদা খান
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ এএম
Main News Image

ফুটবল মাঠের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের এমন লড়াই ইতিহাসে প্রথম। তবে এদের লড়াই শুধু ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। ইতিহাসের পাতায় এদের রয়েছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস।

সাম্রাজ্য বিস্তার ও রাজনৈতিক আধিপত্যের সেই লড়াইগুলো বদলে দিয়েছিল পৃথিবীর মানচিত্র। ফুটবল মাঠের উত্তেজনার মাঝে দেখে নেওয়া যাক তাদের ঐতিহাসিক সেই রণক্ষেত্রের গল্প- ঐতিহাসিক কিছু আন্তর্জাতিক সংঘাত ও যুদ্ধ :

ইংল্যান্ড বনাম ফ্রান্স (১৩৩৭–১৪৫৩): এটি ইউরোপের ইতিহাসে ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স ওয়ার’ নামে পরিচিত। ফরাসি সিংহাসনের উত্তরাধিকার এবং ভূখণ্ডের দাবি নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। দফায় দফায় এই সংঘাত প্রায় ১১৬ বছর ধরে চলেছিল। শুরুর দিকে ইংল্যান্ড একের পর এক জয় লাভ করে।

পরবর্তীতে ১৭ বছর বয়সী কৃষককন্যা জোয়ান অব আর্ক ফরাসি সেনাদের নেতৃত্ব দেন। জোয়ান অব আর্কের বীরত্বে অবশেষে ১৪৫৩ সালে ফ্রান্স জয়ী হয়।

ইংল্যান্ড বনাম স্পেন (১৫৮৮-১৬০৪) : ধর্ম, উপনিবেশ এবং সমুদ্র বাণিজ্যের আধিপত্য নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়। ইংল্যান্ড তখন নেদারল্যান্ডসের স্পেন-বিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল।

১৫৮৮ সালে স্পেন ইংল্যান্ড আক্রমণের জন্য বিশাল নৌবহর 'স্প্যানিশ আর্মাডা' পাঠায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্পেনের সেই অভিযান ব্যর্থ হয়।

১৬০৪ সালে লন্ডন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে। ইউরোপে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই দুই দেশ ২৪ বছর যুদ্ধ করে।

ফ্রান্স বনাম স্পেন (১৬৩৫–১৬৫৯) : ইউরোপে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই দুই দেশ ২৪ বছর যুদ্ধ করে। যুদ্ধটি মূলত ‘থার্টি ইয়ার্স ওয়ার’-এর অংশ হিসেবে শুরু হয়েছিল।

পরবর্তীতে এটি একটি স্বাধীন যুদ্ধে রূপ নেয়। ১৬৫৯ সালে 'ট্রিটি অব দ্য পিরেনিস' স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধের পর ইউরোপে স্পেনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য দুর্বল হয়ে পড়ে।

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড (১৯৮২) : ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দ্বীপটি ১৮৩৩ সাল থেকে ইংল্যান্ডের দখলে ছিল। তবে আর্জেন্টিনা বরাবরই এটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছিল।

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার দ্বীপটি দখল করে নেয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেন। মাত্র ৭৪ দিনের মাথায় ১৪ জুন আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স (১৮৪৫–১৮৫০) : এটি সরাসরি কোনো যুদ্ধ ছিল না, তবে পরিস্থিতি ছিল যুদ্ধাবস্থার মতো। উরুগুয়ের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সৃষ্টি হয়। ফরাসি ও ব্রিটিশ নৌবাহিনী আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস বন্দরের নৌবাণিজ্য আটকে দিয়েছিল।

আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন (১৮১০–১৮২৫) : এটি ছিল মূলত আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা যুদ্ধ। স্প্যানিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এই লড়াই সংঘটিত হয়। আর্জেন্টিনার বিপ্লবী বাহিনী স্প্যানিশদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করে।