কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
Main News Image

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সার্বিক সূচি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, বর্তমান সরকারের জাতিসংঘের শীর্ষ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া এটি যেমন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম নেতৃত্বদান, তেমনই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে থাকছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফর বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও গণতান্ত্রিক রূপরেখা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ও ভাষণ:
২৪ সেপ্টেম্বর (জাতিসংঘ ভাষণ): প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের কথা তুলে ধরবেন।

২২ সেপ্টেম্বর: সকালে জাতিসংঘের মহাসচিবের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন এবং অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত অভ্যর্থনায় অংশ নেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন। বৈশ্বিক বৈষম্য প্রতিরোধে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ সভায় বক্তব্য দেবেন। বিকেলে যোগ দেবেন ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায়।

২৪ সেপ্টেম্বর (উদ্বোধনী বক্তব্য): সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন, যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানাবেন।

বিশেষ সাইড ইভেন্ট:
২৩ সেপ্টেম্বর: রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর: মাতৃ-নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবেন।

দ্বিপাক্ষিক ও ব্যবসায়িক বৈঠক:
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, ইউএনএইচসিআর, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আইপিআই প্রধানের সাথেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন ও যুব কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সফরের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যাবে।