বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: বছরে ৯০ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিটের সুযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
Main News Image

ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন ৪২.৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দেশের প্রথম বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ঢাকার বিশাল বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধান হবে, অন্যদিকে প্রতিবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিট আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ২০২৮ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থায়ন

বিনিয়োগ ও অর্থায়ন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ ও ডিএনসিসির সম্মতিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি (CMEC) গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে ৬,০০০ কোটি টাকার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে। অর্থায়নে যুক্ত রয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (AIIB), ডিবিএস (DBS), এনডিবি (NDB) এবং ব্যাংক অব চায়না।

সিটি কর্পোরেশনের ব্যয় সাশ্রয়: আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিবছর প্রায় ৫২০ কোটি টাকা খরচ হতো। চীনা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করায় সিটি কর্পোরেশনের এই অর্থ সাশ্রয় হবে।

বিদ্যুতের প্রকৃত দাম: প্রাথমিকভাবে ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি দেখা গেলেও, কার্বন ক্রেডিট ও সিটি কর্পোরেশনের সাশ্রয় হিসাব করলে বিদ্যুতের কার্যকর মূল্য প্রতি ইউনিটে ১০ টাকার নিচে দাঁড়াবে বলে জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রযুক্তি ও পরিবেশগত সুফল

উন্নত প্রযুক্তি: বাংলাদেশের উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন বর্জ্য পোড়াতে চীনে উদ্ভাবিত বিশেষ 'ইনসিনারেটর গ্রেট' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রিফিউজ-ডেরিভড ফুয়েল (RDF) ও বায়োমেথানেশনের মাধ্যমে প্লাস্টিক-কাগজ পৃথকীকরণ এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করা হবে।

কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়া: খোলা ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পচে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস বাতাসে মেশার বদলে তা নিয়ন্ত্রিত ডাইজেস্টারে নিয়ে জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে। প্রতি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশকে এই ক্রেডিট প্রদান করা হবে।

নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পখাতে সবুজ প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার ও কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ মতামত: জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং নগরীর কাঁচা বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও দূষণ কমিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক সুশৃঙ্খল ও আধুনিক মডেল তৈরি করবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সুদূরপ্রসারী কার্বন ট্রেডিং পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন এখন জরুরি।