ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার : মাঠে নামছে বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বহর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ এএম
Main News Image

দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিশেষ এই অভিযানে স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্টসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৪৫,৪৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩০ জন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুতে সংক্রমণ সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট নির্দেশনাদেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত: মার্চ মাস থেকে প্রতি শনিবার সারা দেশে পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। মশার লার্ভা শনাক্তে বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ছাড়: সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বরাদ্দ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষাসমূহে ৮০% ছাড় কার্যকর করার নির্দেশ রয়েছে।

হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি

উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঢাকায় বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে তৈরি করা হয়েছে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় সারা দেশের প্রায় ৩০০ জন চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ‘বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটি’র সাহায্যে ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে জরুরি স্যালাইন ও কিট ঘাটতি দেখা দিলে নিজস্ব তহবিল থেকে তা তাৎক্ষণিক কেনার অনুমতি রয়েছে।

সামাজিক সচেতনতা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। পাশাপাশি সিডিসির পরিচালকদের নিয়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। মসজিদের ইমাম ও স্কুল হেলথ কর্মসূচির মাধ্যমে এই সচেতনতা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।