বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেন কিনছে সরকার, ব্যাখ্যা তথ্য উপদেষ্টার
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ পছন্দের মূল কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্র্যান্ড পরিচালনা এবং কারিগরি সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাপোর্ট স্টাফ ও পাইলটরা বোয়িং পরিচালনায় আগে থেকেই প্রস্তুত ও প্রশিক্ষিত থাকায় এই উড়োজাহাজের প্রতি সরকারের আগ্রহ কিছুটা বেশি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বোয়িং কেনাকাটা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তথ্য উপদেষ্টা।
বোয়িং চুক্তির বিস্তারিত ও অর্থনৈতিক প্রভাব
চুক্তির ব্যাপ্তি: গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
প্রাক্কলিত ব্যয়: ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে মোট খরচ হবে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রতি ডলার ১২২.৭৩ টাকা হিসেবে যা প্রায় ৪৫,৪০৮ কোটি টাকা)।
সরবরাহ সময়সূচি: ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানকে বুঝিয়ে দেবে বোয়িং।
অর্থনৈতিক চাপ: মূল্য পরিশোধ দীর্ঘমেয়াদে কিস্তিতে সম্পন্ন হবে বলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর কোনো তাৎক্ষণিক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এয়ারবাস কেনা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এয়ারবাস'-এর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বোয়িং কেনার মানে এয়ারবাসকে পেছনে ফেলে দেওয়া নয়। সরকারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া এবং এয়ারবাস থেকেও নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।