গুপ্তদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে কি না খতিয়ে দেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশে কৃত্রিম অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই অপচেষ্টায় প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী লিপ্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি যেকোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে (কেআইবি) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশে সংকট রয়েছে—তা আমরা অস্বীকার করছি না। তবে সেই সমস্যাকে পুঁজি করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকা উচিত।"
জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের চলমান লংমার্চের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, "স্বৈরাচারের মধ্যে যেমন 'গুপ্ত'রা লুকিয়ে ছিল, তেমনি এখন গুপ্তদের ভেতরে আবার স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে কি না এবং তারা পুরোনো শাসনব্যবস্থাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে কি না—তা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে।"
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দেশের সাধারণ মানুষকে দিয়ে তিনি বলেন, "২৪-এর গণআন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড এই দেশের জনগণ।" বর্তমান সরকার পরিচালনার চ্যালঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর এক ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ভেঙে পড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা উপহার পেয়েছেন তারা। তবে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে ইতোমধ্যে একটি টেকসই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার বিনামূল্যে নারী শিক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, জিয়া, খালেদা ও বিএনপি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়েই বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।