হরমুজে আটকা জাহাজের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশ সংকট!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
Main News Image

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে মাসের পর মাস ধরে প্রায় ১,৫০০টিরও বেশি জাহাজ আটকে থাকা বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক পরিবেশ ও জৈব-নিরাপত্তার জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ সময় একস্থানে স্থির থাকার ফলে এসব জাহাজের তলে আক্রমণাত্মক সামুদ্রিক প্রজাতি জমা হচ্ছে। পরবর্তীতে জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করলে তা বিশ্বজুড়ে আক্রমণাত্মক প্রজাতির ‘সুপার-স্প্রেডার’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

জাহাজ দীর্ঘদিন এক জায়গায় স্থির থাকলে এর নিমজ্জিত অংশে ব্যাকটেরিয়া, অণুজীব, শৈবাল ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী (যেমন barancle, tunicate, bryozoan) আটকে গিয়ে স্থায়ী আস্তরণ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে বায়োফাউলিং (Biofouling) বলা হয়।

পারস্য উপসাগরের সমুদ্রতলের বেশিরভাগ অংশ কাদা ও বালু দিয়ে গঠিত। কঠিন পৃষ্ঠের অভাব থাকায় জাহাজের তলদেশকে সামুদ্রিক জীবগুলো উপনিবেশ স্থাপনের আদর্শ স্থান হিসেবে বেছে নেয়।

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জাহাজ আটকে থাকায় বসন্ত ও গ্রীষ্মের উষ্ণ তাপমাত্রা প্রজনন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে। উদাহরণস্বরূপ, এই অঞ্চলের Amphibalanus improvisus নামক বার্নাকল ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রতিদিন প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক প্রাণী থেকে ৩৬টি পর্যন্ত লার্ভা নিঃসরণ করতে পারে।

রং বা অ্যান্টি-ফাউলিংয়ের সীমাবদ্ধতা: জাহাজের গায়ে ব্যবহৃত কেমিক্যাল বা বায়োসাইডযুক্ত অ্যান্টি-ফাউলিং রং মূলতঃ জাহাজ চলন্ত অবস্থায় কার্যকর থাকে। মাসের পর মাস জাহাজ নিষ্ক্রিয় থাকলে তা অকেজো হয়ে পড়ে। জাহাজে জমে থাকা এসব অ-স্থানীয় প্রজাতি অন্য অঞ্চলের সাগরে ছড়িয়ে পড়লে তা বহুমুখী ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনবে:

আক্রমণাত্মক প্রজাতি স্থানীয় সামুদ্রিক প্রজাতিকে স্থানচ্যুত করে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করতে পারে।

সামুদ্রিক মৎস্যচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিদ্যুতকেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থা (Cooling Systems) বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

জাহাজের তলে বায়োফিল্ম জমার কারণে পানির ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এতে গতি বজায় রাখতে শুধু মাইক্রোবিয়াল স্তরের জন্য ২-৫% এবং ভারী বার্নাকল বা ঝিনুক জমার ক্ষেত্রে ২৫% পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়াতে হয়।

পারস্য উপসাগরের মতো উষ্ণ ও লবণাক্ত পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য যেসব বন্দরে রয়েছে, সেগুলো এই আক্রমণাত্মক প্রজাতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে-এশিয়ার মুম্বাই (ভারত), কলম্বো (শ্রীলঙ্কা), সিঙ্গাপুর। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার জেদ্দা (সৌদি আরব), আলেকজান্দ্রিয়া (মিশর)। ইউরোপের পিরেয়ুস (গ্রিস), আলহেসিরাস (স্পেন), রটারডাম (নেদারল্যান্ডস)।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যাত্রা শুরুর আগে জাহাজগুলো সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা আদর্শ সমাধান হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অত্যন্ত জটিল। রোবটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করে জাহাজ পরিষ্কারের সুবিধা উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ বন্দরে সীমিত। শত শত বিশাল জাহাজ একসঙ্গে পরিষ্কার করার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো এই অঞ্চলে নেই।

জাহাজগুলো উপসাগর ত্যাগ করার পর গন্তব্য বন্দরগুলোতে পৌঁছালে সেখানে আগমনের পরপরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কঠোর জৈব-নিরাপত্তা (Biosecurity) নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য