সমঝোতা লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ানোর দাবি
ইরানের আইআরজিসির (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর) মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্ষণস্থায়ী 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' (এমওইউ) ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি হামলা এক চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত ও তাদের পাল্টা হামলায় অন্তত ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
পেন্টাগনের তথ্য প্রত্যাখ্যান: আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মার্কিন পরিসংখ্যানকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে।
হামলার পরিধি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ৮টি প্রধান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটিতেই অন্তত ২০টি সামরিক আশ্রয়স্থল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়।
'অপারেশন নাসর ২': গত দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলার জবাবে ইরান যে প্রতিরোধমূলক পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, তাকে ‘অপারেশন নাসর ২’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
সংঘাতের সময়লিপি
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের সূচনা।
৮ এপ্রিল ২০২৬: টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ইরান মেনে নেয়।
১৭ জুন ২০২৬: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
১২ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে টানা ১৩ রাত ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে আকাশপথে হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে যুদ্ধাপরাধের সামিল।
বর্তমান অবস্থা: এই চুক্তিভঙ্গের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। আইআরজিসি মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব প্রকাশ পায়। টানা দুই সপ্তাহের হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলপথ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আজকের দিনে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।