শিশুকে বাঁচাতে প্রাণ গেল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মা-মেয়ের
যুক্তরাজ্যের এসেক্সের কলচেস্টারে সমুদ্রের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে এই মারাত্মক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইউকে (যুক্তরাজ্য) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু মর্মান্তিক এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দুজন হলেন যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ডা. মনসুর রহমানের স্ত্রী ও তাদের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কন্যা। নিহত ওই নারী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সিলেটের ছাতক উপজেলার অধিবাসী মুজিবুর রহমানের কন্যা। অন্যদিকে, ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিশিষ্ট বিএনপি নেতা শেখ মখন মিয়ার সন্তান।
স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্রসৈকতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তারা সবাই আনন্দমুখর পরিবেশে সময় কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ সাগরের প্রচণ্ড স্রোত এসে পরিবারের ছোট একটি শিশুকে পানির দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। অবোধ শিশুটিকে উদ্ধারের আকুল চেষ্টায় কোনো কিছু না ভেবেই সাগরের পানিতে ঝাঁপ দেন মা ও তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে।
শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, সমুদ্রের উত্তাল জোয়ারের টানে তলিয়ে যান মা-মেয়ে দুজনই। পরবর্তীতে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার সময় সৈকতে উপস্থিত থাকা শোকস্তব্ধ পিতা মুজিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত পরিবারের অন্য সদস্যদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে করে দ্রুত লন্ডনের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
থমথমে সৈকত ও উদ্ধার তৎপরতা
ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়ে যুক্তরাজ্যের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। এসেক্স পুলিশের এক মুখপাত্র জানান:
"কলচেস্টারের ওয়েস্ট মার্সিতে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ জনগণকে আপাতত সিভিউ অ্যাভিনিউ এবং এর সংলগ্ন সৈকত এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হচ্ছে।"
ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ ধরে এইচএম কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) জানিয়েছে, সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়েস্ট মার্সির ইনশোর লাইফবোটের পাশাপাশি ক্লাক্টন-অন-সি কেন্দ্রের দুটি বিশেষ লাইফবোট অবিলম্বে সাগরে নামানো হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।