সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়: বিষাক্ত মিথেনে মৃত বেড়ে ৯
ভারতের সিকিমের নামচিতে তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত সোমবার সামারদুং এলাকার এই সুড়ঙ্গে আচমকাই ধস নামে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ পৌঁছেছে। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এ পর্যন্ত ৮ জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও বহু শ্রমিক অন্ধকারের ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গমুখ, অন্যদিকে ভেতরে অনবরত বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক করায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হঠাৎ ধস ও মিথেন লিক : প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার কাজের সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এক বিকট শব্দ শোনা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ওপর থেকে হুড়মুড়িয়ে পাহাড়ি ধস নেমে আসে এবং সুড়ঙ্গের প্রধান প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে বাইরের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের পরেই সুড়ঙ্গের অভ্যন্তর থেকে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করে, যা উদ্ধারকাজের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকাজ : ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), সিকিম পুলিশ, দমকল এবং এনএইচপিসি (NHPC)-র যৌথ উদ্ধারকারী দল। তবে উদ্ধারকাজ শুরু করতেই নেমে আসে নতুন বিপত্তি। নামচির জেলাশাসক অনুপ তামাং জানান, বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের তীব্রতা সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করেন কয়েকজন উদ্ধারকারী। গ্যাসের প্রভাবে তাঁরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে পরবর্তীতে বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ও অক্সিজেন মাস্ক পরা এনডিআরএফ-এর দ্বিতীয় একটি দল সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করে এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। বিষাক্ত বাতাসের কারণে উদ্ধারকারীদের প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
আটকে থাকা শ্রমিকদের নিয়ে অনিশ্চয়তা : প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১২ জন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের গভীরে এখনও ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। জেলাশাসক অনুপ তামাং জানান, আটকে থাকা শ্রমিকের সঠিক সংখ্যাটি এখনই স্পষ্ট বলা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, এখনও অন্তত ১৮ জনের বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন।
বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার হলো অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গে অক্সিজেনের প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে বাইরে বের করে আনা। সিকিম রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। সুড়ঙ্গের বাইরে স্বজনদের আকুল অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠার মধ্যেই উদ্ধারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।