শ্রাবণ মাসের সোমবারে না খেয়ে থাকবেন? কী করবেন
শ্রাবণ মাসের সোমবারে না খেয়ে থাকার কারণ কী? মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় এ ব্রত বহু প্রাচীনকাল থেকে পালন করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও নিষ্ঠা যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, উপবাসের সময় ও বিশেষ করে উপোস ভাঙার পর শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রে ব্যাঘাত ঘটে ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
সুস্থ থেকে ব্রত সম্পন্ন করতে উপোস ভাঙার পর কোন কোন ভুল এড়িয়ে চলবেন, দেখে নিন এক নজরে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুধা বেশি পায়, তবে একবারে প্রচুর খাবার খাওয়া একেবারেই অনুচিত। এতে পরিপাকতন্ত্রের ওপর হঠাৎ চাপ পড়ে। উপোস ভাঙার সময় সবসময় হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার দিয়ে শুরু করুন এবং শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন। উপোসের শেষে লুচি বা অন্যান্য তেলের খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে খালি পেটে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার হজম করা বেশ কঠিন। এর ফলে পেট ফাঁপা, বদহজম ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভাজাভুজি পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।
সারাদিন নির্জলা বা স্বল্প জল পানের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। উপোস ভাঙার সময় একবারে অনেকটা জল না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার জল পান করুন। সাধারণ জলের পাশাপাশি ডাবের জল বা দইয়ের ঘোল শরীরকে দ্রুত সতেজ করতে সাহায্য করে।
মিষ্টি শরবত দিয়ে উপোস ভাঙলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। তাই শরবত বা খাবারে চিনির পরিবর্তে গুড় বা খেজুর ব্যবহার করা শ্রেয়। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে খেজুর দিয়ে তৈরি মাখানার পায়েস, কলার স্মুদি কিংবা ফলের রায়তা বেছে নিতে পারেন।
উপবাস চলাকালীন বা ঠিক পরেই চা-কফি পান করলে অতিরিক্ত ক্যাফিনের কারণে অ্যাসিডিটি ও পেট জ্বালা হতে পারে। তাই উপোস ভাঙার পর খালি পেটে চা বা কফি না খেয়ে, হালকা কোনো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরই চা-কফি পান করুন।
ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখাই যেকোনো ব্রত পালনের মূল উদ্দেশ্য। তাই সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে উপবাস সম্পন্ন করুন ও সুস্থ থাকুন।