মুখের মতোই জরুরি হাতের যত্ন
আমরা অনেকেই মুখের ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রচুর সময় এবং অর্থ ব্যয় করি। কিন্তু প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অঙ্গ ‘হাত’-এর কথা ভুলে যাই। অথচ রূপবিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, মানুষের বয়সের ছাপ সবার আগে প্রকাশ পায় তার হাতেই। প্রতিনিয়ত রোদের আলো, বায়ুদূষণ, সাবানের ক্ষার এবং নানাবিধ কাজের ধকল সবার আগে পড়ে হাতের ওপর। ফলে অনেক সময় বয়সের তুলনায় হাতকে বেশি বয়স্ক, খসখসে এবং বলিরেখাযুক্ত দেখায়। হাতের এই অকাল বার্ধক্য দূর করে একে কোমল ও চিরতরুণ রাখার জন্য প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
নিচে হাতের সঠিক যত্ন ও তারুণ্য ধরে রাখার ৫টি অত্যন্ত কার্যকর উপায় আলোচনা করা হলো:
১. সানস্ক্রিন বা এসপিএফ (SPF) ব্যবহার: হাতের ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ বা পিগমেন্টেশন পড়ার প্রধান কারণ হলো সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি। আমরা মুখে নিয়মিত সানস্ক্রিন মাখলেও হাতকে অরক্ষিত রেখে দিই। তাই প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার আগে মুখের পাশাপাশি হাতেও পর্যাপ্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর পুনরায় সানস্ক্রিন মেখে নেওয়া প্রয়োজন।
২. অ্যান্টি-এজিং উপাদানের প্রয়োগ : মুখের বলিরেখা ও চামড়া ঝুলে যাওয়া রোধ করতে আমরা যেসব অ্যান্টি-এজিং উপাদান ব্যবহার করি, সেগুলো হাতের ত্বকের জন্যও সমান কার্যকর। হাতের চামড়া কুঁচকে যাওয়া রোধ করতে এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে রেটিনয়েড (Retinoid) সমৃদ্ধ ক্রিম বা সেরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া পেপটাইড হাতের ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে ও তারুণ্য ধরে রাখতে দারুণ সাহায্য করে।
৩. ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা : নানা কারণে আমাদের সারাদিনে ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্যবিধির জন্য এটি ভালো হলেও অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারের ফলে হাতের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা হারিয়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতা দূর করতে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বজায় রাখতে সেরামাইড এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
৪. সঠিক প্রসাধনী নির্বাচন : হ্যান্ড ক্রিম কেনার সময় কিছুটা সচেতন হওয়া প্রয়োজন। খেয়াল রাখতে হবে, সেই ক্রিমে যেন অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধি বা অ্যালকোহল না থাকে। এই উপাদানগুলো সাময়িকভাবে ভালো অনুভূতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করে এবং নানাবিধ চর্মরোগের কারণ হতে পারে। তাই সবসময় রাসায়নিকমুক্ত ও মৃদু উপাদানযুক্ত ক্রিম বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৫. হাত ধোয়ার সঠিক কৌশল : হাত পরিষ্কার করার সময় অতিরিক্ত কড়া বা ক্ষারযুক্ত সাবান এড়িয়ে মৃদু ও ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিকুইড সোপ ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া হাত ধোয়ার জন্য অতিরিক্ত গরম বা খুব ঠান্ডা জল ব্যবহার না করে সবসময় হালকা ঈষদুষ্ণ গরম জল ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের উপরের চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
হাত আমাদের ব্যক্তিত্ব ও কর্মক্ষমতার প্রকাশ ঘটায়। তাই প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে হাতের যত্নকেও সমান গুরুত্ব দিন। সামান্য একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত সঠিক উপাদানের ব্যবহার আপনার হাতকে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত কোমল, মসৃণ ও আকর্ষণীয় রাখতে সাহায্য করবে।