ঢাকার বিষাক্ত বাতাসে বিপর্যস্ত ত্বক
ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এই দূষিত বাতাসের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের ত্বকে। ধুলোবালি আর ধোঁয়ার কারণে ব্রণ, অ্যালার্জি, কালচে ছোপ ও অকাল বার্ধক্যের মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। বিষাক্ত এই পরিবেশেও কীভাবে আপনার ত্বককে সুরক্ষিত ও সতেজ রাখবেন? জেনে নিন সহজ কিছু উপায়:
বাইরে থেকে ফিরে শুধু পানি বা সাধারণ ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যথেষ্ট নয়। প্রথমে একটি অয়েল-বেসড ক্লিনজার বা মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে ত্বকে জমে থাকা তেল ও ধুলোবালি গলিয়ে মুছে নিন।
এবার একটি মৃদু (Gentle) ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক ভালো করে ধুয়ে নিন। দূষণের ফলে ত্বকে যে ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’ তৈরি হয়, তা ত্বককে বুড়িয়ে দেয়। তাই সকালে মুখ ধোয়ার পর ভিটামিন-সি (Vitamin C) বা নিয়াসিনামাইড যুক্ত সিরাম ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে।
ত্বক শুষ্ক হলে দূষণ সহজে ক্ষতি করে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। রোদের পাশাপাশি সানস্ক্রিন ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণা থেকেও ত্বককে রক্ষা করে। মেঘলা আকাশ থাকলেও ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই SPF ৩০+ সানস্ক্রিন লাগান।
সপ্তাহে অন্তত এক বা দুই দিন স্ক্রাব ব্যবহার করুন। এতে মৃত কোষ দূর হবে। এটি লোমকূপের গভীরে আটকে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার করে ত্বককে শ্বাস নিতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং করবেন না।
ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এতে টক্সিন বা দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল (যেমন- লেবু, আমলকী, বেরি) রাখুন।
দূষণ থেকে বাঁচতে ঘরের বাইরে সবসময় মাস্ক ব্যবহার করুন। মাস্ক শুধু ফুসফুস নয়, মুখের বড় একটি অংশকেও সরাসরি ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। একটু বাড়তি সচেতনতাই পারে এই ব্যস্ত শহরেও আপনার ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে।