ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রভাবে বাড়ছে শিশুদের ‘মাইওপিয়া’

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:০২ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ এএম
Main News Image

বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ও ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শিশুদের চোখের সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। শিশুদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ‘চাইল্ডহুড মাইওপিয়া’ বা ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা। এতে কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি না বদলালে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

সম্প্রতি ‘ওয়ার্ল্ড মায়োপিয়া উইক’ উপলক্ষে ‘অল ইন্ডিয়া অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি’ (AIOS) একটি জরুরি গাইডলাইন জারি করেছে। 'সান ফার্মা'-র সহযোগিতায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিশু চক্ষু চিকিৎসকেরা এটি তৈরি করেছেন।

ভারতে উদ্বেগজনক চিত্র : শহরাঞ্চলের প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু মাইওপিয়ায় ভুগছে। গ্রামীণ এলাকাতেও এই হার ৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ১২টি রাজ্যের ১ লক্ষের বেশি শিশুর ওপর পরিচালিত স্ক্রিনিংয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২৭ শতাংশ শিশুর দৃষ্টিশক্তি অস্বাভাবিক। AIOS প্রেসিডেন্ট ডা. জীবন সিং তিতিয়াল বলেছেন, চাইল্ডহুড মায়োপিয়া মানে শুধু চশমা পরা নয়। 'হাই মায়োপিয়া' ভবিষ্যতে রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়া, গ্লুকোমা বা চিরকালের জন্য অন্ধত্বের ঝুঁকি বাড়ায়।

কেন বাড়ছে এই রোগ? : প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে কাটানো। আউটডোর অ্যাক্টিভিটি বা মাঠে খেলাধুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া। অনবরত খুব কাছ থেকে পড়াশোনা বা স্ক্রিন দেখা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সমাধান : AIOS-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ প্রতিরোধের জন্য জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি:

শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ২ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে বা রোদে খেলাধুলো করতে  হবে। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন বা পড়াশোনার পর, ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে।

প্রতি বছর শিশুদের চোখ পরীক্ষা করানো এবং স্কুলে ভিশন স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাট্রোপিন আই ড্রপ বা বিশেষ চশমা চোখের পাওয়ার বাড়ার গতি কিছুটা কমাতে পারে, তবে পুরোপুরি সারাতে পারে না। তাই সময়মতো চোখ পরীক্ষা ও সচেতনতাই পারে শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে।