অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দুর্গন্ধ কতটা দূর করে?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম
Main News Image

আজকাল সৌন্দর্য সচেতন মানুষের মধ্যে ইনফ্লুয়েন্সরদের পরামর্শে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষণীয়। সম্প্রতি সাধারণ সাবানের বিকল্প হিসেবে অনেকেরই পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান। বিশেষ করে আন্ডারআর্মস, কুঁচকি এবং পায়ের পাতার মতো যেসব স্থানে অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং যেগুলোকে জীবাণুর আঁতুড়ঘর বলে গণ্য করা হয়, সেখানে অনেকেই নিয়মিত এসব সাবান ব্যবহার করছেন। অনেকেরই ধারণা, এই সাবান মাখলেই ত্বকের সমস্ত জীবাণু ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যায় এবং ঘাম হলেও শরীরে দুর্গন্ধ ছড়ায় না। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ভালো, নাকি এতে বাড়তে পারে বিভিন্ন জটিলতা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রসাধনী বা সাবানের প্যাকেটের ওপর কেবল ‘অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল’ লেখা দেখেই তা কেনা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। কেনার আগে অবশ্যই তার উপাদানের তালিকা (Ingredients list) যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। একটি কার্যকর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানে মূলত বেনজয়েল পারক্সাইড (Benzoyl peroxide), ক্লোরহেক্সিডিন (Chlorhexidine), স্যালিসিলিক অ্যাসিড (Salicylic acid) এবং জিংক (Zinc) সমৃদ্ধ উপাদান থাকা উচিত। এর মধ্যে বেনজয়েল পারক্সাইড আন্ডারআর্মস ও ব্রণ-প্রবণ ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে দুর্গন্ধ দূর করে। স্যালিসিলিক অ্যাসিড ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, ক্লোরহেক্সিডিন জীবাণু ধ্বংস করে এবং জিংক দুর্গন্ধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

তবে উপকারিতা থাকলেও এসব সাবান প্রতিদিন ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। যেহেতু এতে শক্তিশালী অ্যাক্টিভ উপাদান থাকে, তাই অতিরিক্ত ব্যবহারে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষত ক্লোরহেক্সিডিনযুক্ত সাবান প্রতিদিন মাখলে ত্বক অতিমাত্রায় শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। দৈনন্দিন দুর্গন্ধ রোধ করার জন্য প্রতিদিন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান না মেখে হালকা ক্লিনজার এবং অ্যান্টিপারস্পির্যান্ট রোল-অন ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ।

এ ছাড়া যেকোনো সাবান বা ক্লিনজার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সালফেট, প্যারাবেন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও সুগন্ধিযুক্ত উপাদান এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এসব রাসায়নিক ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে। অতএব, কোনো ইনফ্লুয়েন্সরের কথায় অন্ধভাবে প্ররোচিত না হয়ে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে এবং উপাদানের সঠিক তথ্য জেনে প্রসাধনী ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।