ভাই-বোনের সম্পর্ক মধুর করতে মা-বাবার ৮টি সহজ অভ্যাস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম
Main News Image

একাধিক সন্তানকে সঠিক উপায়ে বড় করে তোলা অভিভাবকদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনই কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। ঘরে ভাই-বোনের মধ্যে খুটিনাটি ঝগড়া, হিংসা বা মান-অভিমান খুবই স্বাভাবিক। তবে অহেতুক বকাবকি বা শাসন না করে মা-বাবা নিজেদের অভ্যাসে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই সন্তানদের সম্পর্ক অনেক বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মধুর হয়ে উঠতে পারে।

১. অহেতুক তুলনা বন্ধ করুন

প্রতিটি শিশুর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলি রয়েছে। "ভাই বা বোনের মতো হও"—এমন কথা কখনোই বলবেন না। এক সন্তানের সঙ্গে অন্যজনের তুলনা করলে তাদের মনে হীনমন্যতা, জেদ ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

২. প্রতিটি সন্তানকে আলাদা সময় দিন

ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন প্রতিটি সন্তানকে একান্তে কিছুটা সময় দিন। আলাদাভাবে অভিভাবকের মনোযোগ পেলে সন্তান নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং মনের কথা নিশ্চিন্তে প্রকাশ করতে পারে।

৩. ঝগড়ায় নিরপেক্ষ থাকুন

সন্তানদের বিরোধে হঠাৎ করেই কারও এক পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। দুজনের বক্তব্যই ধৈর্য ধরে শুনুন। ছোটখাটো সমস্যা নিজেরা মেটাতে উৎসাহিত করুন, তবে বড় কোনো ভুল হলে ন্যায্য বিচার ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিন।

৪. একজনের সামনে অন্যকে অপমান করবেন না

ভুল করলে শাসন করার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু অন্য ভাই বা বোনের সামনে ছোট করলে সন্তানের মনে স্থায়ী ক্ষোভ জমতে থাকে। ভুল শুধরাতে তাকে আলাদা ডেকে নিয়ে বুঝিয়ে বলুন।

৫. যৌথ কাজ ও সহযোগিতার অভ্যাস

ঘরের ছোটখাটো গৃহস্থালি কাজ দুজনকে একসঙ্গে করতে দিন। এতে তাদের মধ্যে দলগত মানসিকতা, দায়িত্ববোধ ও একে অপরকে সাহায্য করার ইচ্ছা বাড়ে।

৬. একসঙ্গে আনন্দের সময় কাটান

একসঙ্গে খেলাধুলা করা, গল্প বলা, সিনেমা দেখা কিংবা ঘুরতে যাওয়ার মতো আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করুন। যৌথ অভিজ্ঞতাই তাদের বন্ধন আরও মজবুত করবে।

৭. ভালোবাসায় সমতা বজায় রাখুন

কাউকে বেশি বা কম প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে—এমন অনুভূতি যেন কোনো সন্তানের মনে না আসে। আদর, যত্ন ও উপহারের ক্ষেত্রে সমান নজর দিন।

৮. সৌহার্দ্যপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলুন

জোর করে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। পরিবারে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনন্দের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখুন; সেখান থেকেই ভাই-বোনের টান স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠবে।