অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা কতটা অপরাধ?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
Main News Image

প্রতীকী ছবি। এআই নির্মিত

স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ এবং ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগও এখন সামনে আসছে অহরহ। তবে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা বা প্রচার করা আইনত কতটা অপরাধ, তা নির্ভর করে ঘটনার ধরন, উদ্দেশ এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতির ওপর।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারের মাধ্যমে যদি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসম্মান ক্ষুণ্ণ হয়, তবে তা বিভিন্ন আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়:

কারও ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া পাঠালে বা ছড়ালে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজার বিধান রয়েছে।

পাবলিক প্লেসে (যেমন: পার্ক, বাস বা রেল স্টেশন, ক্যাম্পাস) কারও অবাধ্যমান বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে, যদি তা ভুক্তভোগীর জন্য মানহানিকর হয় বা তাকে সমাজে হেয় করে, তবে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী মানহানির মামলা করা যায়।

আসল বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি বিকৃত ছবি/ভিডিও ব্যবহার করে কাউকে ব্ল্যাকমেইল বা সাইবার বুলিং করা হলে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা অনেক সময় বিনোদন বা বিতর্কের উদ্দেশ্যে অনুমতি ছাড়া পথচারী বা যুগলদের ভিডিও প্রচার করে থাকেন। ভুক্তভোগী এতে আপত্তি জানালে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আইনের আওতায় আইনি পদক্ষেপের কারণ হতে পারে।

কখন অপরাধ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে?

আইনজীবীদের মতে, অনুমতি ছাড়া ধারণ করা সব ছবি বা ভিডিওকে আদালত একইভাবে বিবেচনা করে না, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নির্যাতন বা অন্যান্য সামাজিক অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গোপনে ধারণ করা ছবি বা ভিডিও প্রচার করা হলে আদালত জনস্বার্থ ও উদ্দেশ বিবেচনা করে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখতে পারে।

জনস্বার্থে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদমাধ্যমে এসব প্রমাণ প্রকাশ করা হলে বা আদালতে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে জমা দিলে ধারণকারীকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।

আইনি স্পষ্টতা ও ভুক্তভোগীর আইনি প্রতিকার

বাংলাদেশে কেবল 'অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা'র ঘটনাটিতেই সরাসরি সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিষয়টি আইনে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে তোলা ছবি প্রচার করা হলে বা তার মাধ্যমে মানহানি ও গোপনীয়তা বিঘ্নিত হলে ভুক্তভোগীর একাধিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে:

পর্নোগ্রাফি আইন, সাইবার সুরক্ষা আইন বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা। ভুক্তভোগী কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা প্রমাণ করে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করা।

পাবলিক প্লেসে অবস্থান করলেই কেউ 'পাবলিক প্রোপার্টি' হয়ে যান না। জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ বা মানহানি ঘটে—এমন যেকোনো ছবি তোলা ও প্রচার আইনত দণ্ডনীয়।