মাত্র ১৮ মিনিট হাঁটলেই ঝরবে মেদ! জেনে নিন জাপানি ‘৩-৩-৩’ হাঁটার কৌশল
ওজন কমাতে কিংবা শরীর সুস্থ রাখতে রোজ ১০ হাজার পা হাঁটার প্রচলিত নিয়মটি এখন অনেকেই বদলাচ্ছেন। কারণ, হাঁটারও রয়েছে দারুণ সব কৌশল। জাপানিদের উদ্ভাবিত তেমনই এক বিশেষ পদ্ধতি এখন বেশ আলোচনায় রয়েছে, যার নাম ‘ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং ট্রেনিং’। এই পদ্ধতির ‘৩-৩-৩’ নিয়ম মেনে প্রতিদিন মাত্র ১৮ মিনিট হাঁটলেই নাকি দ্রুত মেদ ঝরতে শুরু করে। পাশাপাশি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়।
জাপানের শিনশু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই বিশেষ হাঁটার কৌশলটি আবিষ্কার করেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে এই নিয়ম মেনে হাঁটবেন।
যেভাবে হাঁটবেন (৩-৩-৩ পদ্ধতি):
পুরো ১৮ মিনিটের হাঁটার সময়টিকে ৩ মিনিট করে মোট ৬টি ধাপে (৩ মিনিট + ৩ মিনিট + ৩ মিনিট × ২ বার) ভাগ করা হয়েছে। যেখানে হাঁটার গতি কখনো বাড়ানো হয়, আবার কখনো কমানো হয়।
প্রথম ৩ মিনিট: ধীরেসুস্থে একদম স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হবে। কোনো তাড়াহুড়ো করা যাবে না এবং স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।
পরের ৩ মিনিট: এ পর্যায়ে হাঁটার গতি বাড়িয়ে বেশ দ্রুত বা হনহন করে হাঁটতে হবে। এতে শরীরের সব পেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং ঘাম ঝরবে।
তার পরের ৩ মিনিট: গতি আবার কমিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে হাঁটতে হবে। এই পর্বে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দিতে হবে।
এই ৩ মিনিটের চক্রটি (স্বাভাবিক হাঁটা -> দ্রুত হাঁটা -> ধীর গতিতে হাঁটা) পরপর দুবার অর্থাৎ মোট ১৮ মিনিট ধরে চালিয়ে যেতে হবে।
এই হাঁটার জাদুকরী উপকারিতা:
মেদ ও ওজন হ্রাস: এই নিয়মে হাঁটলে বিপাক হার (মেটাবলিজম) ও হজমশক্তি বাড়ে। ফলে দ্রুত ক্যালোরি পোড়ে এবং পেট, কোমর ও উরুর জেদি মেদ সহজেই ঝরে যায়।
পেশির শক্তি বৃদ্ধি: হাত-পায়ের পেশি সচল হয় এবং পেশির জোর বাড়ে।
কর্মজীবীদের জন্য উপযোগী: যাঁরা অফিসে দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ এক ব্যায়াম। এতে বেশি পরিশ্রম বা ক্লান্তি ছাড়াই শরীর ফিট থাকে।
প্রসবোত্তর ওজন কমাতে সহায়ক: সন্তান প্রসবের পর যাঁদের ওজন বেড়ে গেছে কিন্তু ভারী ব্যায়াম করা নিষেধ, তাঁরা এই উপায়ে হেঁটে শরীর সুস্থ রাখতে পারেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত এই পদ্ধতিতে হাঁটলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সতর্কতা: কারা এই হাঁটা এড়িয়ে চলবেন?
হাঁটুতে তীব্র ব্যথা বা অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের সমস্যা থাকলে এই কায়দায় হাঁটা যাবে না।
হাঁপানি বা সিওপিডি-র মতো তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে এই ব্যায়াম না করাই ভালো।
যাঁদের হার্টে অস্ত্রোপচার হয়েছে বা যাঁরা হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এভাবে হাঁটবেন না।