বয়স বাড়লেও কীভাবে নিজেকে ফিট রাখেন মাধুরী? রহস্য জানালেন শ্রীরাম
বয়স বাড়লেও শরীর ও স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিয়মিত জীবনযাপনের বিকল্প নেই। বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত এবং তাঁর চিকিৎসক স্বামী শ্রীরাম মাধব নেনে নিজেদের সুস্থ ও ফিট রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাসে গুরুত্ব দেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের জীবনযাপনের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন শ্রীরাম। সুষম খাবার থেকে পর্যাপ্ত ঘুম—কোন অভ্যাসগুলি তাঁদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে?
১. সুষম খাবারে গুরুত্ব
সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত সুষম খাদ্যাভ্যাস। শ্রীরামের মতে, স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অর্থ পছন্দের সব খাবার বাদ দেওয়া নয়। বরং কী খাওয়া হচ্ছে, কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং খাবারের পরিকল্পনা কেমন, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই খাবারের পাতে শাকসব্জি, ফাইবার, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের সঠিক ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।
২. খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাচলা
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক সক্রিয়তা কমিয়ে দিতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা উপকারী হতে পারে। এতে পেশি সক্রিয় থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরকে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি, দিনের মধ্যে একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করাও জরুরি।
শরীর ফিট রাখতে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ করলেই চলে না, পেশির শক্তি বজায় রাখাও প্রয়োজন। এর জন্য সব সময় জিমে যাওয়ার দরকার নেই। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী বাড়িতেই শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম, হালকা ওজন তোলা কিংবা রেজ়িস্ট্যান্স ব্যান্ডের সাহায্যে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। নিয়মিত এই ধরনের ব্যায়াম পেশির শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৪. নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত ঘুম
সুস্থ থাকার জন্য খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময়ে শরীর বিশ্রাম নেয় এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শ্রীরামের মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। ঘুমের আগে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে দূরে থাকা, ঘরে মৃদু আলো রাখা এবং আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করাও ভাল ঘুমের সহায়ক।
৫. স্বাস্থ্য নিয়ে সব ট্রেন্ড অনুসরণ নয়
সমাজমাধ্যমে দ্রুত ওজন কমানো কিংবা নির্দিষ্ট খাবার বাদ দেওয়ার নানা পরামর্শ প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু জনপ্রিয় হলেই কোনও পদ্ধতি স্বাস্থ্যকর, এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়। নতুন কোনও ডায়েট বা শরীরচর্চার পদ্ধতি অনুসরণ করার আগে তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাই করা জরুরি। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মতো প্রমাণভিত্তিক অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।
৬. খাবারের পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতিতে নজর
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। শ্রীরাম উদাহরণ হিসেবে বড়া পাওয়ের মতো পরিচিত খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্প তৈরির কথা বলেছেন। আলুর পরিবর্তে রাঙাআলু ব্যবহার করা কিংবা অতিরিক্ত তেলে ভাজার বদলে অন্য পদ্ধতিতে রান্না করার মতো পরিবর্তন খাবারকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে পারে।
সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র কী?
মাধুরী দীক্ষিত ও শ্রীরাম নেনের জীবনযাপনের এই অভ্যাসগুলি থেকে বোঝা যায়, সুস্থ থাকতে কোনও একটি বিশেষ ডায়েট বা ব্যায়ামের উপর নির্ভর করার বদলে প্রতিদিনের রুটিনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। সুষম খাবার, নিয়মিত হাঁটাচলা, পেশির শক্তিবৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যচর্চা—এই অভ্যাসগুলিই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার ভিত্তি হতে পারে।