দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বাড়াচ্ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল 'PLOS Medicine'-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা আমাদের এক উদ্বেগের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। গবেষণা বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে একটানা বসে থাকার অভ্যাস শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি এবং এর ফলে মৃত্যুর আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যারা প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে জিম, যোগাসন বা হাঁটাহাঁটি করেন, তারাও যদি অফিসে গিয়ে টানা ৮-৯ ঘণ্টা বসে থাকেন, তবে এই বিপদের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। অর্থাৎ, সকালের সাময়িক শরীরচর্চা সারাদিনের একটানা বসে থাকার ক্ষতিকে সম্পূর্ণ পুষিয়ে দিতে পারে না।
গবেষণার মূল তথ্য ও ফলাফল : গবেষকেরা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে প্রায় ৯১,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই সমীক্ষাটি চালিয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে- আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা বসে থাকার পর, প্রতি অতিরিক্ত এক ঘণ্টা বসার কারণে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।
তবে আশার কথা হলো, একটানা বসে থাকার এই সময়টুকু কমিয়ে যদি কাজের ফাঁকে ফাঁকে যেকোনো ধরণের শারীরিক অ্যাক্টিভিটি বা নড়াচড়া বাড়ানো যায়, তবে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
চিকিৎসকদের মতামত ও শারীরিক প্রভাব : দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS Delhi)-এর অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সারাদিন শরীরকে সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘক্ষণ বিরতিহীনভাবে বসে থাকলে শরীরে নিম্নলিখিত নেতিবাচক পরিবর্তনগুলো ঘটে- পেশির সক্রিয়তা কমে যায় এবং বিপাক প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম) ব্যাহত হয়। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং শরীরে প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন) তৈরি হয়। ওজন বৃদ্ধি পায় এবং হরমোনের ভারসাম্যের তারতম্য ঘটে। এই সবকটি কারণ সম্মিলিতভাবে মূলত কোলোরেক্টাল (বৃহদন্ত্র), স্তন (ব্রেস্ট) এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।
যদিও গবেষকেরা জানিয়েছেন যে এই পর্যবেক্ষণমূলক সমীক্ষাটি সরাসরি কার্যকারণ (সরাসরি বসার কারণেই ক্যানসার) অকাট্যভাবে প্রমাণ করে না, তবুও স্মার্ট ব্যান্ড বা ট্র্যাকারের মতো ওয়্যারেবল ডিভাইসের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য এই গবেষণার ফলাফলকে অত্যন্ত জোরালো ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। তাই সুস্থ থাকতে ডেস্ক ওয়ার্কের ফাঁকে ফাঁকে উঠে দাঁড়ানো এবং শরীর সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।