ভারতে প্রথম ডেঙ্গু টিকা : জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক মাইলফলক
ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রকোপের মাঝে অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র পেল প্রথম ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI) ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের জন্য এই টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছিল প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে। প্রতি বছর দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হন এবং বহু প্রাণহানি ঘটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের। এমন পরিস্থিতিতে ‘তাবেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়া’ (Takeda Biopharmaceuticals)-র তৈরি এই টিকা ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে আশাবাদী চিকিৎসকমহল।
কিউডেঙ্গা টিকার বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োগবিধি : টেট্রাভ্যালেন্ট লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড টিকা-এটি ডেঙ্গুর চারটি প্রধান সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করে। এই টিকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আগে থেকে কারও ডেঙ্গু হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করার (প্রি-ভ্যাকসিনেশন টেস্ট) কোনো দরকার নেই। ০.৫ মিলি মাত্রার দু’টি ডোজের মাধ্যমে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম ডোজ নেওয়ার ঠিক তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা : বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যানুযায়ী, এই টিকা ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ৮৪ শতাংশেরও বেশি কমাতে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দ্বারা অনুমোদিত এই টিকাটি ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৩টি দেশে সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে ডেঙ্গুর বিস্তার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই টিকা সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তুতকারক সংস্থাটি বর্তমানে ভারতে প্রতিষেধকটির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।