বর্ষায় সর্দি-কাশিকে দূরে রাখুন সহজে

রীতা খান
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৬ এএম
Main News Image

বাঙালির রান্নাঘরে খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে তেজপাতার ব্যবহার অতি পরিচিত। ডাল, পোলাও কিংবা পায়েস—সব কিছুতেই এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে এটি কেবল রান্নার সাধারণ মশলাই নয়, বরং এর রয়েছে অসাধারণ কিছু ওষুধি ও স্বাস্থ্যগুণ। বিশেষ করে বর্ষার এই মরশুমে সর্দি-কাশি ও ঋতু পরিবর্তনের নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আয়ুর্বেদে যুগ যুগ ধরে তেজপাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। নিচে এর প্রধান উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো:

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর : তেজপাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল, ফ্ল্যাভনয়েড এবং ভিটামিন সি। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে কোষকে সুরক্ষিত রাখে। এর ফলে যেমন অকাল বার্ধক্য রোধ করা যায়, তেমনই কমে আসে বিভিন্ন ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখের ঝুঁকি।

হজমে সহায়তা করে: বদহজম, পেটফাঁপা এবং পেটের ব্যথা দূর করতে তেজপাতা অত্যন্ত কার্যকরী। এর মধ্যে থাকা বিশেষ ডায়জেস্টিভ এনজাইম খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখা জরুরি, তেজপাতা সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এটি হজম করা কঠিন। এর চেয়ে তেজপাতা ফোটানো জল পান করা অনেক বেশি নিরাপদ ও উপকারী।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তেজপাতা শরীরের ইনসুলিন ও গ্লুকোজ মেটাবলিজমের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে এটি দারুণ ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার পাশাপাশি নিয়মিত তেজপাতার জল খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে: তেজপাতার মধ্যে 'rutin' এবং 'caffeic acid'-এর মতো উপাদান রয়েছে, যা হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এগুলো রক্তনালিতে ফ্যাট জমতে দেয় না, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ভিটামিন এ, সি এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানে সমৃদ্ধ তেজপাতা শরীরের ইমিউনিটি বুস্টারের কাজ করে। বিশেষত মরশুম বদলের সময়ে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে তেজপাতা ফোটানো জল বা স্যুপ অত্যন্ত উপাদেয়।

তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সচেতনভাবে তেজপাতা রাখলে বা এর জল পানের অভ্যাস করলে নানাবিধ রোগবালাই থেকে সহজেই দূরে থাকা সম্ভব।