ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে? কিডনির সুরক্ষায় পাতে কী রাখবেন, আর কী বাদ দেবেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ এএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ এএম
Main News Image

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর — ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ থাকলে কিডনির প্রতি বাড়তি যত্নবান হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই দুটি সমস্যা একসঙ্গে থাকলে কিডনির অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। কিডনি শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোটা শরীরেই তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

মুশকিল হলো, কিডনির সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে বোঝা যায় না। কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগীরা অনেক সময় সচেতন হতে পারেন না। ফলে নীরবেই বাসা বাঁধে কিডনির জটিল রোগ। তেলঙ্গনার পুষ্টিবিদ অপেক্ষা একবটের মতে, কিডনি ভালো রাখতে খুব কঠিন কোনো ডায়েট বা পরিচিত খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন এনে কিডনি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

খাদ্যতালিকায় যা খেয়াল রাখবেন:
নুন বা সোডিয়াম কমাতে হবে: অতিরিক্ত নুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই রান্নায় নুন কমাতে হবে। বিশেষ করে পাঁপড়, নোনতা আচার বা সান্ধ্যকালীন নাস্তায় নুন দেওয়া বাদাম খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বাদ দিতে হবে। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির জন্য ক্ষতিকর।

প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন: অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কিডনির স্বাস্থ্যের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়। তাই এগুলি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।

ভাত, রুটি ও প্রোটিন: ভাত বা রুটি কতটা খাবেন, তা নির্ভর করে রোগীর শর্করার মাত্রা ও শারীরিক অবস্থার ওপর। পরিমিত শর্করা গ্রহণের পাশাপাশি স্যালাড ও সবজি বেশি পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। আর প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডাল, মাছ বা মাংস রাখা গেলেও, এর পরিমাণ কত হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের ওজন, কায়িক পরিশ্রম এবং কিডনির বর্তমান অবস্থার ওপর। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই প্রোটিন ও অন্যান্য খাবারের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

নিয়মিত পরীক্ষা কেন জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ থাকলে প্রথমেই রোগ দুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি কোনো উপসর্গের অপেক্ষায় না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিডনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো দরকার।

ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির এক রিপোর্টেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বছরে অন্তত দু’বার ‘কিডনি ফাংশনিং টেস্ট’ (Kidney Functioning Test) করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা এবং ইজিএফআর (eGFR - Estimated Glomerular Filtration Rate) পরীক্ষা করে দেখা হয় কিডনি কতটা সঠিকভাবে রক্ত পরিশোধন করছে। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি থাকলে বুঝতে হবে কিডনি সুস্থ নেই। তাই সময়মতো সচেতন হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।