শ্রাবণের মেঘগুলো' গানে শিক্ষকের ভিডিও: শিক্ষা বিভাগের 'ইউটার্ন'
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পালের পোস্ট করা একটি ফেসবুক ভিডিওকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পুলিশি তদন্ত ও শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে ঘটেছে নানা নাটকীয় ঘটনা। অনলাইন ট্রোল ও শিক্ষকদের পাল্টা প্রতিবাদের পর অবশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ঘটনার মোড় ঘুরে গেছে।
গত ২৩শে জুলাই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল (যিনি ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ে সেরা প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন) তাঁর ফেসবুক পেজে একটি সংক্ষিপ্ত রিল ভিডিও পোস্ট করেন।
আশির দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিফারেন্ট টাচ’-এর ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সুরের সাথে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য। ভিডিওটি আপলোড করার পরপরই তিনি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রোলের শিকার হন। বিউটি পাল সাইবার হয়রানির শিকার হলে তার সমর্থনে এগিয়ে আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
শিক্ষকরা বিউটির প্রতি সংহতি জানাতে একই গান ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করে নিজেদের ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করতে শুরু করেন। কেউ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের নিয়ে, আবার কেউ বিদ্যালয়ের বাইরে ধারণ করা ভিডিও পোস্ট করে ট্রোলিংয়ের প্রতিবাদ জানান।
অপপ্রচারের শিকার হয়ে ২৪ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিউটি পাল। তিনি অভিযোগ করেন তার ভিডিওটি বিকৃত ও অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে তিনি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে বিব্রত বোধ করছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ জড়িতদের বের করতে আইটি ফরেনসিক বিভাগের সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ খতিয়ে দেখার চিন্তা করেছিল যে, ভিডিওটি 'সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি' বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করে কি না। তবে সোমবার সিলেট সফরের সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য স্পষ্ট করেন, "আমার সোশ্যাল মিডিয়া নেই, কাজেই আমি ভিডিও দেখিনি। আমি আশেপাশে জিজ্ঞেস করে জানলাম, একজন একটা গান গেয়ে একটি ভিডিও করেছে এবং সেখানে অশ্লীলতা বা তেমন কিছু নেই। যদি না থাকে, গান গাওয়া অন্যায়—এটা আর কেউ মানুক বা না মানুক, আমি মানতে রাজি না।"
প্রতিমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মন্তব্যের পরই সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ জানান, প্রতিমন্ত্রীর এই স্পষ্ট বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আর কোনো সুযোগ বা প্রয়োজন নেই।