‘ও মাই গড ২’ পরিচালকের মুখোমুখি: যৌনশিক্ষা ও ভালোবাসা নিয়ে অমিত রাই

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
Main News Image

‘ও মাই গড ২’ সিনেমা দিয়ে একসময় দেশের সামাজিক ভণ্ডামি ও যৌনশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমাজকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিলেন পরিচালক অমিত রাই। সম্প্রতি তার নতুন সিনেমা ‘ও মাই ডগ’-এর প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে কলকাতায় এসে সমাজ, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম (জেন জি), সেন্সর বোর্ড ও পরিবার ব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি।

দেশে নারী নির্যাতন ও অপরাধের প্রেক্ষাপটে অমিত রাই আঙুল তোলেন সমাজ ও মানসিকতার গোড়ার গলদের দিকে। তার মতে, এ দেশে ছেলেমেয়েদের প্রয়োজনীয় যৌনশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এখনো অভিভাবকেরা কুণ্ঠাবোধ করেন।

তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, যে দেশে ‘কামসূত্র’ রচিত হয়েছে কিংবা খাজুরাহোর মতো ঐতিহাসিক ভাস্কর্য রয়েছে, সেই দেশের মানুষই নিজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নেয়নি। সেন্সর বোর্ডের একপেশে মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি জানান, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে এই ট্যাবু ও গোঁড়ামি থেকে বের হয়ে আসা জরুরি।

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিম ও হাস্যকৌতুক নির্ভর প্রতিবাদ নিয়ে পরিচালক অত্যন্ত আশাবাদী। তার মতে, তরুণ প্রজন্মকে আমরা অনেকেই উদাসীন ভাবি, কিন্তু তারা নিজেদের মতো করে একজোট হয়ে বার্তা দিচ্ছে। বিরোধের ভাষা যা-ই হোক না কেন, এতগুলো তরুণ যখন একজোট হয়ে সোচ্চার হয়, তখন তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত।

নতুন ছবি ‘ও মাই ডগ’-এর প্রসঙ্গ টেনে অমিত রাই আধুনিক জীবনের তীব্র নিঃসঙ্গতা নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন, যেখানেএকাকিত্বের বিস্তার নিয়ে অনেকখানি আছে। যৌথ পরিবার ভেঙে এখন মানুষ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বা একক পরিবারে বসবাস করছে, যার পরিণতিতে বাড়ছে চরম একাকিত্ব। এই একাকিত্ব কাটাতেই মানুষ এখন পোষ্যকে আপন করে নিচ্ছে। পোষ্য কোনো শর্ত বা বিচার-বিবেচনা ছাড়াই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেয়। অমিত রাইয়ের মতে, মানুষ ভাবে তারা পোষ্যকে লালন-পালন করছে, কিন্তু আদতে পোষ্যই মানুষকে মানসিকভাবে আগলে রাখছে।

মাদার তেরেসার একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে দেন পরিচালক। বিশ্বে কীভাবে শান্তি আসবে—এই প্রশ্নের উত্তরে মাদার তেরেসা বলেছিলেন, “নিজের পরিবারকে ভালোবাসো।” অমিত রাইয়ের বিশ্বাস, তার নতুন চলচ্চিত্র ‘ও মাই ডগ’ মানুষকে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও পরিবারের সেই মূল ভিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।