‘আমি শিল্পী, ভিখারি নই যে কাজ চাইতে হবে’: অকপট টোটা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ এএম
Main News Image

দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিনয় কেরিয়ারে এমন ব্যস্ত সময় আগে কখনও দেখেননি অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে পুলিশ ইন্সপেক্টর দুর্গা রায়ের চরিত্রে আবারও এক অন্য অবতারে দেখা যাবে তাঁকে। টলিউড থেকে বলিউড—কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট, ইন্ডাস্ট্রির প্রতি মান-অভিমান, জীবন দর্শন এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাম্প্রতিক এক আড্ডায় খোলামেলা কথা বললেন এই প্রবীণ অভিনেতা। ভারতীয় গণমাধ্যম এইসময় ডটকমে সোমবার রিচা রায়ের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। টোটা রায়চৌধুরী প্রাণখুলে কথা বলেছেন এ সাক্ষাৎকারে। ঢাকা হেরাল্ডের জন্য চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হল-

জিতের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছেন। এই যৌথ প্রযোজনায় আসতে এত দিন সময় লেগে গেল কেন?                                                                                               খানিকটা দেরি তো হলোই। আমি আগে যে ধরনের ছবি করতাম আর জিত যে ধারার বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করতেন, তাতে হয়তো আগে একসঙ্গে কাজ করার সমীকরণ মেলেনি। তবে আমি বিশ্বাস করি, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার’। যে ছবিটি দিয়ে আমাদের এই পথচলা শুরু হলো, তা এ বছরের অন্যতম বড় ও অন্যতম আলোচিত একটি ছবি হতে চলেছে।

ছবিতে আপনাকে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যে দেখা যাবে। এর জন্য শারীরিক প্রস্তুতি কেমন ছিল?

শারীরিক প্রস্তুতি তো সবসময়ই রাখতে হয়। বড় বাজেটের ছবিতেও সময় বেঁধে দেওয়া থাকে। অভিনেতা যদি শারীরিক দিক থেকে ফিট বা পারদর্শী না হন, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুট শেষ করা অসম্ভব। আমি এবং জিত—কেউই অ্যাকশন দৃশ্যে বডি ডাবল (Body Double) ব্যবহার করা পছন্দ করি না। তাই অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ শট আমরা নিজেরাই দিয়েছি। কেবল আঘাত পাওয়ার চরম আশঙ্কা যেখানে ছিল, বাধ্য হয়ে সেখানে বডি ডাবল ব্যবহার করতে হয়েছে।

 ইন্ডাস্ট্রিতে আপনাকে নাকি খুব ‘বাধ্য’ অভিনেতা বলা হয়?

পরিচালকের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তবে রূপ দেওয়াটাই তো অভিনেতার আসল দায়িত্ব। পরিচালক যা চাইবেন, আমাকে সেটাই করতে হবে। আমি নিজেকে খুব ওপর-চালাক মনে করি না; এখনও অনেক শেখার বাকি রয়েছে। আমি নিজেকে সেটে পরিচালকের হাতে সঁপে দিই—যাতে তিনি তাঁর মতো করে চরিত্রটি গড়ে-পিঠে নিতে পারেন।

বলিউডে কাজ করার পর কি টলিউডে নতুন করে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হলো?

হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলেও সেটাই সত্যি! ওই যে কথাতেই আছে, ‘গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না’। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পরেও যেন কারও মনে হয়নি আমাকে দিয়ে অন্য ধরনের চরিত্র করানো সম্ভব। ১৮০০ কিলোমিটার দূরে বসে চার সাড়ে-চার মিনিটের একটা অডিশন দেখে করণ জোহর আমাকে ‘রকি অউর রানি...’-তে নির্বাচন করলেন। ২০২০ সালের আগে টানা ৭ বছর আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না! হঠাৎ অনেকের মনে হয়েছিল আমি বোধহয় অভিনয়টাই জানি না। আসলে আমি পিআর (PR) করতে পারি না, আর করতে ভালোবাসিও না। আমি একজন শিল্পী, ভিখারি নই যে দ্বারে দ্বারে গিয়ে কাজ চাইতে হবে।

ইন্ডাস্ট্রির প্রিমিয়ার বা নৈশ পার্টিতে আপনাকে প্রায় দেখাই যায় না বললেই চলে...

 না যাওয়ার অনেক কারণ আছে। চারপাশে ক্যামেরা ফলো করছে—এসব কালচার আমার ভালো লাগে না। কোনো ছবি খারাপ লাগলেও বানিয়ে বানিয়ে ভালো বলতে পারি না। তা ছাড়া আমি ভীষণ নিয়মানুবর্তী। অনুষ্ঠান বা পার্টিগুলো বেশ রাতে শুরু হয়, যা আমার ঘুমোনোর স্বাভাবিক সময় নষ্ট করে।

আপনাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক বা গসিপ শোনা যায় না। এর রহস্য কী?

আমি জহুরির ছেলে, আসল জহরত চিনি। আমার ঘরেই ‘কোহিনূর’ (স্ত্রী) রয়েছে, তাই অন্য সোনার পেছনে ছোটার কোনো প্রয়োজন বোধ করি না। বহু বছর আগেই আমি আমার মনের খাঁটি রত্নটি খুঁজে পেয়েছি।

সাম্প্রতিক কয়েকটা বছর কি আপনার কেরিয়ারের সেরা সময়?

একদমই তাই। বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে কেরিয়ার এক নতুন বাঁক নিয়েছে। ‘ফেলুদা’ করলাম, ‘শ্রীময়ী’-তে কাজ করার সুযোগ এলো এবং একের পর এক বেশ কিছু ভালো কাজ পেলাম। ‘রকি অউর রানি...’-র পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন পরিস্থিতি এমন যে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার একটা ডেটও ফাঁকা নেই। এই ধরনের কাজের জোয়ার আমি আগে দেখিনি।

অভিনয় থেকে অবসর নিয়ে কী করার ইচ্ছা রয়েছে?

পুরোপুরি অবসর নেব না, হয়তো পার্ট-টাইম অভিনয় করব। বাকি সময়টা শহরের বাইরে কোথাও আবাসিক হিসেবে থেকে যোগশাস্ত্র, ভক্তি যোগ, জ্ঞান যোগ ও স্বামীজীর দর্শন নিয়ে পড়াশোনা ও চর্চা করব। আর পারিবারিক ব্যবসার যে কথা ওঠে—ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্ক আমি বহু আগেই ত্যাগ করেছি। বাবার দেওয়া শর্ত অনুযায়ী অভিনয়কেই বেছে নিয়েছিলাম।

কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে আপনাকে দেখা যায় না কেন?

কারণ আমি শতভাগ অরাজনৈতিক। আমি মনে করি, একজন প্রকৃত শিল্পীর নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা ভাবধারায় হেলে পড়া উচিত নয়। অভিনেতার কাজ হলো সব মতাদর্শের মানুষকে এক ছাতার নিচে আনা। আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দের খেসারত কেন আমার ছবির পরিচালক বা প্রযোজক দেবেন?