'ফ্লপ মাস্টার জেনারেল' থেকে 'মহানায়ক' উত্তম
মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণদিবস ছিল ২৪ জুলাই। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তার প্রভাব আজও অমলিন। তবে আজকের এই 'মহানায়ক'-এর রূপালী পর্দায় যাত্রাটা ছিল চরম ব্যর্থতা ও অপমানের।
১. সাধারণ সূচনা ও কঠিন লড়াই : ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার আহিরীটোলায় অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। ছোটবেলা থেকেই তার নাটকের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। সংসারের হাল ধরতে তিনি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টে চাকরি শুরু করেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত থিয়েটার চালিয়ে যান।
২. পর পর ব্যর্থতা ও কটূক্তি : ১৯৪৮ সালে 'দৃষ্টিদান' ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম বড়পর্দায় আসেন। ১৯৪৯ সালে 'কামনা' ছবিতে প্রথমবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি নিজের নাম বদলে 'অরূপ কুমার' রেখেছিলেন। এরপর স্থায়ীভাবে 'উত্তম কুমার' নাম গ্রহণ করেন। তবুও 'সহযাত্রী', 'ওরে যাত্রী', 'নষ্টনীড়' ও 'সঞ্জীবনী'—পর পর সবকটি ছবিই বক্স অফিসে ফ্লপ করে। ইন্ডাস্ট্রিতে তার উপাধি হয়ে যায় 'ফ্লপ মাস্টার জেনারেল'। তার চেহারা, সংলাপ বলার ভঙ্গি ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে চরম কটূক্তি করা হতো। একপর্যায়ে তিনি অভিনয় ছেড়ে দিয়ে চাকরি করার কথা ভেবেছিলেন।
৩. নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলা : তিনি হার না মেনে অপমানকে জেদে পরিণত করেন। নিজের দুর্বলতাগুলো দূর করতে নিরলস পরিশ্রম শুরু করেন। নিয়মিত অভিনয়ের অনুশীলন ও প্রচুর বই পড়া শুরু করেন। নিজের উচ্চারণ, অঙ্গভঙ্গি, ফিটনেস ও ব্যক্তিত্বের ওপর কঠোর কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সুযোগ এলে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
৪. ইতিহাস সৃষ্টি ও অমরত্ব : ১৯৫২ সালে মুক্তি পায় 'বসু পরিবার'। ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সফল হয়। এরপর 'সাড়ে চুয়াত্তর', 'অগ্নিপরীক্ষা', 'হারানো সুর', 'সপ্তপদী' ও 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি'-র মতো কালজয়ী ছবি দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। যে ইন্ডাস্ট্রি তাকে বাতিল করতে চেয়েছিল, তারাই তাঁকে 'মহানায়ক' উপাধিতে ভূষিত করে।
উত্তম কুমারের জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয়; এটি ব্যর্থতাকে শক্তিতে এবং অপমানকে ইতিহাসে বদলে দেওয়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণা।