তসলিমা ফিরছেন কলকাতায়, ফের মুক্তি পাচ্ছে ‘নির্বাসিত’
দীর্ঘ দুই দশকের অলিখিত নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে তিলোত্তমায় ফিরছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট (শনিবার) কলকাতার ঐতিহাসিক রবীন্দ্র সদনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। আর লেখিকার এই ‘ঘরে ফেরা’-কে উদ্যাপন করতে তাঁর আসার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে প্রেক্ষাগৃহে পুনরায় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নির্বাসিত’।
উচ্ছ্বসিত পরিচালক চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় : বাংলাদেশের নির্বাসিত এই লেখিকা এই প্রত্যাবর্তন এবং ছবির নতুন করে মুক্তি নিয়ে আবেগপ্লুত ছবির পরিচালক তথা অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি এই মুহূর্তটিকে তসলিমার লড়াইয়ের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই জয় তসলিমাদিদির।”
প্রযোজনা সংস্থা ‘এসভিএফ’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চূর্ণী জানান, যে সময়ে এক চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছিল, সেই সময় এমন বিষয় নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত এই ছবিটি নতুন করে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাকে তিনি একটি অসাধারণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
২০০৭-এর স্মৃতি ও দীর্ঘ অলিখিত নিষেধাজ্ঞা : ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে কলকাতার একাংশে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সে সময় সেনাও মোতায়েন করতে হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বাম সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং লেখিকাকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
পরবর্তী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলেও তসলিমার ওপর থেকে এই অলিখিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ সরেনি। চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বজুড়ে চষে বেড়ানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কাছাকাছি থাকার আকুলতায় তসলিমা বছরের পর বছর দিল্লিতে অবস্থান করেছেন।
ছবির প্রেক্ষাপট ও একটি আক্ষেপ : বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে তসলিমার নির্বাসিত জীবনের ঘটনাকে উপজীব্য করেই তৈরি হয়েছিল ‘নির্বাসিত’। ছবির শুটিংয়ের জন্য চূর্ণী গিয়েছিলেন সুইডেনের সেই নির্জন দ্বীপেও, যেখানে একসময় নির্বাসনে কাটাতে হয়েছিল লেখিকাকে।
দীর্ঘ লড়াই শেষে তসলিমা নাসরিন এবার কলকাতায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ‘রানির মতো’ পা রাখছেন— এতে পরিচালক আনন্দিত হলেও একটি জায়গায় থেকে গেছে গভীর আক্ষেপ। তসলিমার সেই কঠিন দিনগুলোর একনিষ্ঠ সঙ্গী, আদরের পোষ্য মার্জার (বেড়াল) ‘মিনু’— যে এই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল— তার আর কলকাতায় ফেরা হলো না।