ক্যান্সারযোদ্ধা সঞ্জয়ের অন্য গল্প

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
Main News Image

 বলিউডের রুপালি পর্দায় বহুবার নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি এক অদম্য যোদ্ধা। তিনি সঞ্জয় দত্ত। দীর্ঘদিন ধরে ফোর্থ স্টেজ (চতুর্থ পর্যায়) ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন এই অভিনেতা। জীবনের সেই চরম অন্ধকার সময় পেরিয়ে এসে সঞ্জয় আজ নিজেকে একজন গর্বিত ‘ক্যান্সার যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি মুখ খুলেছেন তাঁর সেই ক্যান্সারের দিনগুলো নিয়ে, যা অন্য সব ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

মারণব্যাধিকে জয় করার অবিশ্বাস্য লড়াই : ২০২০ সালের আগস্ট মাসটি সঞ্জয় দত্তের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আচমকাই তাঁর শরীরে ধরা পড়ে ফোর্থ স্টেজ ফুসফুসের ক্যান্সার। খবরটি জানার পর ভেঙে না পড়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শুরু হয় তাঁর ক্যান্সারের চিকিৎসা। চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সঞ্জয়ের নিজের মনের জোরে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই ঘটে অলৌকিক ঘটনা। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে সম্পূর্ণ ক্যান্সারমুক্ত হন তিনি।

ক্যান্সার যখন শুধুই ‘ভাইরাল ফ্লু’! : ফোর্থ স্টেজের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেঁচে ফিরলেন সঞ্জয়? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা তাঁর অনন্য জীবনদর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি ক্যান্সারকে কোনো মারণব্যাধি হিসেবে নয়, বরং সাধারণ একটি ‘ভাইরাল ফ্লু’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তিনি মনে করেন, রোগকে ভয় না পেয়ে সহজভাবে গ্রহণ করলেই লড়াইয়ের শক্তি পাওয়া যায়।

যন্ত্রণার সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সঞ্জয় বলেন, "আপনাকে একজন যোদ্ধা হতে হবে। হাল ছেড়ে দিলে চলবে না, তবে এটা একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।"

সঞ্জয় বিশ্বাস করেন, জীবনের যেকোনো সমস্যা বা কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, তা থেকে পালিয়ে না গিয়ে বুক চিতিয়ে তার মোকাবিলা করা উচিত।

কেমোথেরাপির সেই কঠিন দিনগুলো :ক্যান্সার যাত্রার সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অংশ ছিল কেমোথেরাপি। চিকিৎসার তীব্র প্রভাবে একসময় সঞ্জয়ের মাথার সব চুল পড়ে যায়। অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন, চুল পড়ে যাওয়ার সেই সময়টি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও স্পর্শকাতর মুহূর্ত। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও হাসিমুখের আড়াল হতে দেননি নিজেকে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, জীবনের সব প্রতিকূলতাকে হাসিমুখে জয় করাই আসল বীরত্ব।

লড়াইয়ের নতুন প্রেরণা : সঞ্জয় দত্তের এই জীবনসংগ্রাম কেবল একটি সুস্থতার গল্প নয়; এটি লাখ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। নিজের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বারবার সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে সঞ্জয় প্রমাণ করেছেন যে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, হাসিমুখ আর লড়াকু মানসিকতা থাকলে ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধিকেও হেসেখেলে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব।