ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’: ৩২ কোটি টাকায় বিক্রি সেই ফুটবল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
Main News Image

ফুটবলের দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর ইতিহাসে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। সেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল। ঐতিহাসিক সেই দ্বৈরথে অকালপ্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ব্যবহার করা একমাত্র বলটি সম্প্রতি নিলামে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয়েছে। আমেরিকার বিখ্যাত ‘হেরিটেজ অকশন’-এ আয়োজিত নিলামে বলটি ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার সমতুল্য। সংগ্রাহকদের বিশ্বে ফুটবল স্মারক বিক্রির ইতিহাসে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্যের একটি নতুন মাইলফলক।

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত গোলটি প্রত্যক্ষ করে পুরো ক্রীড়াজগত। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিল্টনের মাথার ওপর দিয়ে ম্যারাডোনা কৌশলে তাঁর বাঁ হাত দিয়ে বলটি জালে জড়িয়ে দেন। ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের গোলটিকে বৈধ ঘোষণা করেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ম্যারাডোনা তাঁর বিখ্যাত মন্তব্যটি করেছিলেন, গোলটি হয়েছিল কিছুটা ম্যারাডোনার মাথায় আর কিছুটা ঈশ্বরের হাতের সাহায্যে। সেই মুহূর্ত থেকেই গোলটি বিশ্বজুড়ে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি অর্জন করে।

বিতর্কিত এই গোলের মাত্র চার মিনিট পর ম্যারাডোনা যা করেছিলেন, তা ফুটবল ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে এবং গোলরক্ষক শিল্টনকেও কাটিয়ে তিনি দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। অসাধারণ এই নৈপুণ্যটি পরবর্তীকালে ফিফা কর্তৃক ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে ঘোষিত হয়। একই ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সবচেয়ে শৈল্পিক দুটি গোল সম্পন্ন হয়েছিল একটি মাত্র ফুটবল দিয়ে, যার নাম ‘অ্যাডিডাস অ্যাজটেকা’। ফলে ফুটবলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব হয়ে ওঠে অপরিসীম।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ঐতিহাসিক সেই ম্যাচ শেষে তিউনিসীয় রেফারি আলি বিন নাসের খেলার একমাত্র অফিশিয়াল বলটি নিজের স্মারক হিসেবে কাছে রেখে দেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলটি তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। ২০২৩ সালে তিনি লিখিত প্রত্যয়নপত্রে জানান যে পুরো ম্যাচে এই একটি বলই ব্যবহৃত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারাও প্রমাণিত হয়। ২০২২ সালে তিনি প্রথমবার বলটি ২৩.৭ লক্ষ ডলারে বিক্রি করেছিলেন। তবে নতুন মালিক ২০২৩ সালে আবার নিলামে তুললেও ন্যূনতম নির্ধারিত দর না ওঠায় সেটি অবিক্রিত থেকে যায়। অবশেষে নতুন এই নিলামে রেকর্ড মূল্যে হস্তান্তরিত হয়ে বলটি তার দীর্ঘ যাত্রার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করল।