অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে রেকর্ড গড়ল টাইগাররা!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
Main News Image

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে চার দিনেই ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক টেস্ট জয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ক্যাঙ্গারুদের তাদেরই মাটিতে টেস্টে হারিয়ে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়েছে দুরন্ত বাংলাদেশ। কিছুদিন আগেই জুনের শেষভাগে ঘরের মাঠে অপেক্ষাকৃত দুর্বল জিম্বাবুয়ের কাছে মাত্র তিন দিনে ইনিংস ব্যবধানে হেরে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিল টাইগাররা। তবে সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই ঘরের মাঠে গুঁড়িয়ে দিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যেন এক রূপকথার নতুন গল্প রচনা করল।

ডারউইন টেস্টের প্রথম সেশন থেকেই স্পষ্ট ছিল বাংলাদেশ দলের নিখুঁত পরিকল্পনা ও একাগ্রতা। অধিনায়ক ও দলের সকল সদস্য প্রতিটি সেশনে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ভুল ক্রিকেট খেলার পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখিয়েছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে ম্যাচের ফলাফলে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের গতি তারকা হাসান মাহমুদের নিখুঁত ও ধারাবাহিক বোলিংয়ের মুখে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। হাসান মাহমুদ ৫৫ রান খরচায় ৬টি উইকেট নিয়ে অজিদের শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান।

জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে বিশাল ৪২৬ রান। ব্যাটিংয়ে শক্ত ভিত গড়ে দেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১০১ রানের দুর্দান্ত এক শতক উপহার দেন তিনি। এছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল অর্ধশতক বাংলাদেশকে ২২৮ রানের বিশাল প্রথম ইনিংস লিড এনে দেয়।

দ্বিতীয় ইনিংসে পিছিয়ে পড়ে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হয়। এই ইনিংসে স্পিন জাদুতে অজি ব্যাটারদের পরাস্ত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তুলে নেন ৫টি মূল্যবান উইকেট। অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও গতি ও সুইং বজায় রেখে ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট শিকার করেন। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। চতুর্থ দিনের তৃতীয় সেশনে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সহজে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় এবং নিশ্চিত করে ৯ উইকেটের এক ইতিহাসগড়া সাফল্য।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে একাধিক অনন্য রেকর্ডের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্রুততম জয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান এখন টাইগারদের। ক্যাঙ্গারুদের দেশে মাত্র তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলে প্রথম জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। এর আগে কেবল ইংল্যান্ড ১৮৭৭ সালে তাদের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেয়েছিল। এরপর ১৯১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পায়। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কম ম্যাচ খেলে জয় পাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেগেছিল ৫টি, পাকিস্তানের ৭টি এবং ভারতের ১২টি টেস্ট। (এছাড়া শ্রীলঙ্কা ১৫টি ও জিম্বাবুয়ে ২টি টেস্ট খেলেও এখনো জয়ের মুখ দেখেনি)।

তানজিদ তামিমের অনন্য সেঞ্চুরি রেকর্ড। ডারউইনে ১০১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জীবনের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে শতক হাঁকানো ইতিহাসে দ্বিতীয় এশিয়ান ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তানজিদ তামিম। এর আগে ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের হানিফ মোহাম্মদ প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন। সুনিল গাভাস্কার (১৯৭৭) ও যশস্বী জয়সওয়াল (২০২৪) সেঞ্চুরি করলেও তা এসেছিল ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে। স্যার গারফিল্ড সোবার্স ও মার্টিন ক্রো-র মতো কিংবদন্তিদের পাশাপাশি তানজিদের নামও এবার এই বিশেষ তালিকায় যুক্ত হলো।

পেস বোলিংয়ে হাসান মাহমুদের ইতিহাস। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা ইনিংস পারফরম্যান্সের মালিক হয়েছেন হাসান মাহমুদ (শাহাদাত হোসেনের ২৭/৬ ও এবাদত হোসেনের ৪৬/৬-এর পর)। পাশাপাশি শাহাদাত হোসেন ও রবিউল ইসলামের পর তৃতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে এক টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়ার বিরল মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত কিন্তু নিখুঁত এই নৈপুণ্য বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের শুধু অপার আনন্দই দেয়নি, বরং বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে লাল-সবুজের দলের নতুন সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের বলিষ্ঠ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।