মেসি ও আর্জেন্টিনা দলকে আক্রমণের ছক: ফাঁস হলো রিপোর্ট
স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’ (Informacion.es)-এ আমেরিকার পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া গোপন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত গত ফুটবল বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসি, আর্জেন্টিনা দলসহ একাধিক ফুটবল তারকা, রেফারি ও ফিফা কর্তাদের ওপর জঙ্গি হামলার বড় ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছিল।
১. মেসি ও আর্জেন্টিনা দলকে লক্ষ্য করে হামলার ছক
আর্জেন্টিনা-জর্ডন ম্যাচ: ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হুমকি দেয় যে, সে এবং তার দুই সঙ্গী ঘরে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ (AR-15) রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকবে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলেন লিয়োনেল মেসি, তবে পুরো আর্জেন্টিনা দল, জর্ডন দল এবং পুলিশও তাদের নিশানায় ছিল।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ: ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে সমাজমাধ্যমে এক ব্যক্তি লিখেছিল, সে শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেবে। এছাড়া ওই একই দিনে স্টেডিয়ামের ভেতরে তিনটি জঞ্জাল ফেলার জায়গায় বোমা রাখা রয়েছে বলেও পুলিশের কাছে একটি হুমকি ফোন আসে।
২. ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও কিলিয়ান এমবাপের নিরাপত্তা বাড়াবাড়ি
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো: ফিফার এক কর্মীর কাছে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি রোনাল্ডোর সময়সূচি ও অবস্থান জানতে চায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। হিউস্টন, টরন্টো এবং মায়ামিতে রোনাল্ডোর নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি পর্তুগালের টিম হোটেলে নিরাপত্তা টপকে ঢুকে পড়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়।
কিলিয়ান এমবাপে: বিশ্বকাপের সময় ফরাসি তারকা এমবাপের কাছাকাছি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পৌঁছোনোর একাধিক চেষ্টার পর তাঁর নিরাপত্তাও কড়া করা হয়েছিল।
৩. রেফারি ও ফিফা কর্তাদের হুমকি
রেফারিদের ওপর চাপ: আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি ফ্রান্সিয়স লেক্সিয়ঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারেরও বেশি হুমকি বার্তা পাঠানো হয়।
ভিএআর (VAR) ও অন্যান্য কর্তারা: উক্ত ম্যাচের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিসহ একাধিক ম্যাচ অফিসিয়াল এবং ফিফা কর্তারা ইমেল ও বার্তার মাধ্যমে খুনের হুমকি পেয়েছিলেন।
৪. তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
পাওয়া কোনো হুমকিকেই হালকাভাবে নেয়নি মার্কিন প্রশাসন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আমেরিকার স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামানো হয় এফবিআই (FBI) এবং সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন (IPCC)-কে। টুর্নামেন্ট জুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ফলেই বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো সম্ভব হয়নি।