সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লো সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
Main News Image

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন বেতনস্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা ধরা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় পিআইডি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিনি জানান, নতুন এই বেতন স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে, যার ফলে জুলাই মাস থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই পে-স্কেলের সুবিধা ভোগ করবেন। এছাড়া এই বৈঠকেই সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদাভাবে 'যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬' অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

বেতন বৃদ্ধির অনুপাত ব্যাখ্যা করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড-১ থেকে ১১ পর্যন্ত মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন ধাপের কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা জোরদার করতে সর্বনিম্ন অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে বেতন বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। পরবর্তীতে কমিশনের দেওয়া সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত খসড়া তৈরির লক্ষ্যে চলতি বছরের ২১শে এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যা এই নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত রূপ দেয়।

সরকারি একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নবম জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে দেশে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মরত কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীসহ অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এই বিশাল পরিবর্তন বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে।