সরকারের ছয় মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৯৫ শতাংশ অগ্রগতি
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ ১৮০ দিনেই নেট মিটারিং সংযোগ ব্যবস্থার আওতায় ২০০ মেগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ সফলভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত এক বিষদ প্রতিবেদন থেকে এ সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাপক সম্প্রসারণ, জাতীয় গ্রিডকে স্থিতিশীল করা এবং সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে বিদ্যুৎ বিভাগ বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য নির্ধারিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে 'জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)' প্রণয়নের পাশাপাশি স্রেডার উদ্যেগে প্রস্তুত করা হয়েছে 'জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ ২০২৬'। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট নীতিমালার আওতায় ১০ মেগাওয়াটের একটি নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক রাখতে ও ধারাবাহিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঈশ্বরদী গ্রিড উপকেন্দ্রে ১২০ মেগাওয়াট এবং ভুলতা গ্রিড উপকেন্দ্রে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশালাকার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের মূল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে সুনীল অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমুদ্রভিত্তিক অফশোর উইন্ড পাওয়ার গাইডলাইন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষ ত্রি-মন্ত্রণালয় যৌথ ব্যবসায়িক মডেল তৈরি সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের এই যৌথ উদ্যোগের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশে। দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে গত ছয় মাসে মোট সাতটি নতুন কূপ খনন ও চারটি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালানো হয়, যার ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-১০ ও ১১, শ্রীকাইল-৫, রশিদপুর-১১, তিতাস-২৮ এবং সুন্দলপুর-৪ কূপের সফল খনন কাজ থেকে দিনে ২১ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং চারটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে আরো ১০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে নতুন করে মোট ৩২ দশমিক ০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দৈনিক জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে সারাদেশে মোট ৫০টি বড় কূপ খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮টি কূপ খননের ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন গভীর সমুদ্র এবং অনশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে 'বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬' এবং 'বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬' সংক্রান্ত যাবতীয় খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়েছে। মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এছাড়া মহেশখালীতেই স্থলভিত্তিক ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন (ইআরএল প্রকল্প)-এর জন্য পরামর্শক ও ট্রানজ্যাকশন এডভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
খাতটির প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপচয় কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন—এই পাঁচ মাসের ব্যবধানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সিস্টেম লস ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর অধীনে গণশুনানির মাধ্যমে সব ধরনের জ্বালানির সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ ট্যারিফ বা দাম নির্ধারণের আইনি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে। ভোলার উৎপাদিত গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে নিয়ে আসার প্রকল্পেরও প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে এই অগ্রগতি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস