ফুরফুরে ও ঝলমলে চুল পেতে হেয়ার স্পা জরুরি?
উৎসবের মরশুম কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষে চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই সালোঁমুখী হন। কেউ চুল সোজা (স্ট্রেট) করান, কেউ রঙ্গে রাঙান, আবার কেউ বেছে নেন হেয়ার স্পা। শুষ্কতা দূর করে চুলকে তাৎক্ষণিক নরম ও ঝলমলে করতে স্পায়ের জুড়ি নেই। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— হেয়ার স্পা কি আসলেই চুল ঝরে পড়া বন্ধ করতে পারে, নাকি এটি কেবল সাময়িক বাহ্যিক উজ্জ্বলতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
সম্প্রতি এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন বলিপাড়ার খ্যাতনামা কেশসজ্জাশিল্পী অমিত ঠাকুর— যিনি নীতা অম্বানী, আলিয়া ভাট, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকাদের রূপচর্চার সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, হেয়ার স্পা হলো মূলত একাধিক ধাপের একটি পুষ্টিকর ট্রিটমেন্ট, যা স্ক্যাল্প ও চুলে আর্দ্রতা জোগায়।
কেরাটিন বা বোটক্সের মতো কৃত্রিম ট্রিটমেন্টের চেয়ে হেয়ার স্পাকেই বেশি প্রাধান্য দেন এই বিশেষজ্ঞ। কারণ অন্য ট্রিটমেন্টগুলোর মতো হেয়ার স্পা চুলের প্রাকৃতিক গঠন বদলে দেয় না।
হেয়ার স্পায়ের আসল উপকারিতা
আর্দ্রতা রক্ষা: চুলে জমে থাকা প্রসাধনীর আস্তরণ পরিষ্কার করে গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয়। রুক্ষতা ও জট দূর করা: চুলকে তাৎক্ষণিক নরম ও মসৃণ করে তোলে, ফলে চুলে জট লাগার প্রবণতা কমে। ভাঙন রোধ: অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
হেয়ার স্পায়ের সীমাবদ্ধতা
বাহ্যিক টেক্সচার উন্নত করলেও হেয়ার স্পা নতুন চুল গজানো কিংবা মূল থেকে চুল পড়া বন্ধ করতে পারে না। কারণ চুল ঝরে পড়ার নেপথ্যে সাধারণত থাকে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কারণ: বংশগত সমস্যা ও হরমোনের হেরফের। থাইরয়েড কিংবা রক্তে আয়রন ও জরুরি পুষ্টির ঘাটতি। তীব্র মানসিক চাপ, জ্বর বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার পরবর্তী প্রভাব। দ্রুত ওজন কমানো কিংবা ওষুধজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
এসব অভ্যন্তরীণ শারীরিক সমস্যার ওপর হেয়ার স্পায়ের কোনো প্রভাব নেই। তাই চুলকে বাহ্যিক ভাবে সুন্দর ও প্রাণবন্ত রাখতে স্পা চমৎকার ভূমিকা রাখলেও, অতিরিক্ত চুল ঝরার সমস্যা দূর করতে প্রয়োজন অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করে সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।