বর্ষায় ফিকে হচ্ছে হেয়ার কালার
বর্ষাকালে চুলে রং করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তা নিষ্প্রভ ও ফিকে হতে শুরু করে। অনেকেই এর জন্য বৃষ্টির জলকে দায়ী করলেও আসল কারণ লুকিয়ে আছে আবহাওয়ার অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম, স্ক্যাল্পের তেল, দূষণ, অতিবেগুনি (UV) রশ্মি এবং বার বার চুল ধোয়ার অভ্যাসের মধ্যে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবেই হেয়ার কালারের সৌন্দর্য দ্রুত নষ্ট হয়। তবে সঠিক উপায়ে যত্ন নিলে বর্ষাতেও চুলের রং রাখা সম্ভব একদম উজ্জ্বল ও ইনট্যাক্ট।
স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য রক্ষা
চুলের রং ফিকে হয়ে যাওয়া এবং জৌলুস হারানো দুটি ভিন্ন বিষয় হলেও বর্ষায় তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল কিছুটা উঠে যায়, ফলে আলো প্রতিফলিত না হয়ে চুল নিষ্প্রভ দেখায়। এছাড়া ঘাম, তেল এবং কেমিক্যাল প্রোডাক্টের অবশিষ্টাংশ স্ক্যাল্পে জমে গিয়ে খুশকি ও চিটচিটে ভাব বাড়ায়। তাই শুধু চুলের লম্বা অংশের নয়, স্ক্যাল্পের সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রথম কাজ। পিরোকটোন ওলামাইন কিংবা টি-ট্রি অয়েলের মতো উপাদানযুক্ত স্ক্যাল্প কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে জমানো ময়লা বা বিল্ড-আপ দূর হয় এবং স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে।
সঠিক হেয়ার কালার নির্বাচন
রং দীর্ঘস্থায়ী করার প্রক্রিয়া শুরু হয় রং নির্বাচনের সময় থেকেই। কেবল পছন্দের শেড বেছে নিলেই চলবেনা, চুলের ক্ষতি যেন কম হয় এমন পেশাদার সার্ভিস নেওয়া জরুরি। অ্যামোনিয়া-মুক্ত হেয়ার কালার এবং অর্গান অয়েল বা ওয়ালনাট অয়েলের মতো পুষ্টিকর উপাদানযুক্ত ফর্মুলা নির্বাচন করা ভালো। এই উপাদানগুলো চুলের অভ্যন্তরীণ শুষ্কতা কমিয়ে তা নরম ও মসৃণ রাখে, যার ফলে চুল বহুদিন রং ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
রং করার পর বিশেষ যত্ন (আফটার কেয়ার)
চুলে রং করার পরের দিনগুলোতে কীভাবে যত্ন নেওয়া হচ্ছে, তা রঙের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে। আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল বাতাস থেকে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প শোষণ করে নেয়, যার ফলে কিউটিকল খুলে গিয়ে রঙের পিগমেন্ট ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। এই সমস্যা রোধ করতে সাধারণ শ্যাম্পুর বদলে অবশ্যই কালার-সেফ ও সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু শেষে নিয়মিত ভালো মানের কন্ডিশনার কিংবা ডিপ-কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা আবশ্যক।
ছোট অভ্যাসে বড় পরিবর্তন
দৈনন্দিন জীবনযাপনে সামান্য কিছু সচেতনতা চুলের রং দীর্ঘদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে। চুল ধোয়ার পর সাধারণ তোয়ালে দিয়ে শক্ত করে না ঘষে, মাইক্রোফাইবার তোয়ালে দিয়ে আলতো হাতে জল শুষে নেওয়া উচিত। চুলের ফ্রিজি ভাব বা জট কমাতে হালকা ও নন-স্টিকি সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সতর্ক থাকা দরকার, চুলে রং করা থাকলে লেবু বা দইয়ের মতো ঘরোয়া উপাদান দিয়ে রূপচর্চার পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই শ্রেয়, কারণ এগুলোর অ্যাসিডিক উপাদান রং দ্রুত নষ্ট করে দেয়।