কাচের মতো চকচকে ও মসৃণ 'গ্লাস হেয়ার'-এর খোঁজে
বর্তমান সময়ে সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ট্রেন্ডি একটি হেয়ার স্টাইল হলো ‘গ্লাস হেয়ার’। এই স্টাইলের মূল বিশেষত্ব হলো কাচের মতো নিখুঁত, চকচকে এবং চরম মসৃণ চুল তৈরি করা। এতে চুল এতটাই সোজা ও জটহীন থাকে যে আলো সহজেই প্রতিফলিত হয় এবং আয়নার মতো উজ্জ্বল দেখায়। চুলে কোনো ধরনের উসকোখুসকো বা ফ্রিজ়ি ভাব না থাকায় এটি দেখতে অত্যন্ত আধুনিক ও স্টাইলিশ লাগে। তবে এমন আকর্ষণীয় লুক পেতে হলে চুলকে ভিতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গ্লাস হেয়ারের মূল ভিত্তি হলো সঠিক নিয়মে চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখা। এর জন্য প্রথমেই সালফেট-মুক্ত হাইড্রেটিং শ্যাম্পু ব্যবহার করে নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা উচিত। শ্যাম্পু করার পর ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করা আবশ্যক এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন ডিপ কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক লাগানো উচিত, যা চুলকে গভীর থেকে পুষ্টি জোগায়। এছাড়া, চুল ধোয়ার শেষ ধাপে ঠান্ডা জল ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চুলের প্রাকৃতিক আভা ও চকচকে ভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।
চুল সোজা বা স্টাইল করার ক্ষেত্রে সঠিক সচেতনতা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। ব্লো-ড্রায়ার বা স্ট্রেটনারের মতো হিট স্টাইলিং টুল ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভালো মানের হিট প্রোটেক্টর স্প্রে বা ক্রিম লাগিয়ে নেওয়া উচিত। চুল শুকোনোর পর শেষ স্পর্শ হিসেবে একটি হালকা বা লাইটওয়েট শাইন সিরাম ব্যবহার করতে হবে। এতে চুল পায় কাচের মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল রূপ এবং ফ্রিজ়ি ভাব পুরোপুরি দূর হয়।
চুলের সাধারণ যত্নের পাশাপাশি ঘুমানোর সময় কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সুতির কাপড়ের তৈরি বালিশের কভারের বদলে সিল্ক বা স্যাটিনের কভার ব্যবহার করলে চুলে ঘর্ষণ কমে, ফলে রাতে জট পড়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং চুলের মসৃণতা বজায় থাকে। সর্বোপরি, প্রতিটি মানুষের চুলের ধরন ভিন্ন, তাই নিজের চুলের প্রকৃতি বুঝে উপযুক্ত শ্যাম্পু ও ট্রিটমেন্ট নির্বাচন করাই গ্লাস হেয়ার ধরে রাখার সেরা উপায়।