কিশোর কুমারের ‘গৌরী কুঞ্জ’ থেকে বিরাটের ‘ওয়ান ৮ কমিউন’: ঐতিহ্যের রূপান্তর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
Main News Image

ইনার পিক ক্যাপশন : বিরাট কোহলীর রেস্তরাঁ ‘গৌরী কুঞ্জ’-এর একাংশে। ছবি:সংগৃহীত

মুম্বইয়ের জুহুর অদূরে বিশাল কাঠের দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলো ‘গৌরী কুঞ্জ’ কেবল একটি আবাসন নয়, বরং ভারতীয় সংগীত জগতের এক ঐতিহাসিক স্মারক। প্রখ্যাত গায়ক, সুরকার ও অভিনেতা কিশোর কুমারের পেশাগত জীবনের মধ্যগগনে তৈরি হওয়া এই বাসস্থানটি ছিল তাঁর শান্তির নীড়।

শান্তির নীড় ও প্রকৃতির স্পর্শ

মা গৌরীদেবীর নামে তৈরি এই বাড়িটি বৈভবের চেয়ে প্রকৃতির স্পর্শেই বেশি জীবন্ত ছিল। চার দেয়ালের কৃত্রিমতার বদলে প্রকৃতি থেকেই কিশোর কুমার তাঁর সৃষ্টির মূল অনুপ্রেরণা পেতেন। বাড়িতে ছিল খোলামেলা প্রাঙ্গণ, সবুজ ঘাসের কেয়ারি করা লন, উঠোন, মনোরম বাগান এবং শিল্পীর প্রিয় ‘ভিন্টেজ কার’। লোকমুখে জানা যায়, কিশোর কুমার একান্তে বাগানের গাছগুলোর সাথে কথা বলতেন এবং সেগুলোর বিভিন্ন নামও দিয়েছিলেন।

‘কিশোর হইতে সাবধান’ ও অনন্য কৌতুকবোধ

কিশোর কুমারের অসাধারণ কৌতুকবোধের পরিচয় মিলত বাড়ির প্রবেশদ্বারে। দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে ফটকের বাইরে কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গিতে লিখে রেখেছিলেন— ‘কিশোর হইতে সাবধান’।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে গড়ে ওঠা এই ‘গৌরী কুঞ্জ’-তেই জন্ম নিয়েছিল তাঁর অসংখ্য কালজয়ী গান। একসময় সংগীত ও অভিনয় জগতের বহু স্বনামধন্য শিল্পীর পদচারণায় মুখরিত থাকত এই অঙ্গন।

নতুন রূপ: 'ওয়ান ৮ কমিউন' রেস্তরাঁ

সময়ের নিয়মে গৌরী কুঞ্জের সেই স্মৃতিঘেরা প্রাঙ্গণে এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। ২০২২ সালে ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলী এবং অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা ‘গৌরী কুঞ্জ’-এর একাংশে গড়ে তোলেন তাঁদের রেস্তরাঁ ‘ওয়ান ৮ কমিউন’।

বর্তমানে সেখানে সাধারণের অনায়াস প্রবেশের সুযোগ না থাকলেও, রেস্তরাঁটির সাজসজ্জা ও পরিবেশনায় কিশোর কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা হয়েছে।

সংগীতের আবহে শ্রদ্ধাঞ্জলি: রেস্তরাঁয় নিয়মিত বাজানো হয় প্রয়াত এই মহাতারকার সুরের মূর্ছনা।

জার্সি নম্বর ও স্মারক: বিরাট কোহলীর বিখ্যাত ১৮ নম্বর জার্সির সাথে সামঞ্জস্য রেখে রেস্তরাঁর নাম রাখা হয়েছে ‘ওয়ান ৮’। পাশাপাশি খাবারের মূল্যতালিকা নির্ধারণেও অঙ্কের শেষে '১৮' সংখ্যাটি রাখা হয়েছে।

স্মৃতি ও আধুনিকতার এই সমন্বয়ে কিশোর কুমারের ঐতিহ্যবাহী ‘গৌরী কুঞ্জ’ আজও মুম্বইয়ের বুকে নতুন পরিচয়ে অমলিন।