টিকিট বিক্রিতে ফিফার নতুন রেকর্ড: উত্তর আমেরিকার ৩ দেশে আয় ৪৮ হাজার কোটি টাকা
গত ফুটবল বিশ্বকাপে নানা বিতর্ক সত্ত্বেও স্টেডিয়ামগুলোতে ছিল ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। অবশেষে আসরটি থেকে টিকিট বিক্রির প্রাপ্ত অর্থের আনুষ্ঠানিক আনুমানিক তথ্য প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, কেবল টিকিট বিক্রি থেকেই সংস্থাটির পকেটে ঢুকেছে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা।
এই আয় এর আগের কাতার বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, আয়োজক দেশগুলোর এই বিশ্বকাপ থেকে তাদের মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা)। ফিফার দেওয়া নতুন তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তাদের মোট আয়ের বড় অংশই এসেছে সরাসরি টিকিট বিক্রি থেকে। সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক প্রত্যাশার চেয়েও প্রায় ২০০ কোটি ডলার বেশি আয় করতে পেরেছে তারা।
হিসাব অনুযায়ী, কেবল টিকিট বিক্রির অর্থই নয়, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) খাত থেকেও বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত হিসাব ও নিরীক্ষার কাজ চলায় এই আয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয় বহুগুণ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ দলের সংখ্যা ও টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি। কাতারে ৩২ দলের বিশ্বকাপ আয়োজিত হলেও উত্তর আমেরিকার যৌথ আয়োজনে ম্যাচ সংখ্যা ৪০টি বেড়ে অংশ নেয় ৪৮টি দল। ম্যাচ বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকিটের মূল্যেও ছিল বড় অংকের লাফ। উদাহরণস্বরূপ, আসরের ফাইনাল ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় চার লাখ টাকা।
যদিও বিশ্বকাপের শুরু থেকেই টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল এবং শুরুর দিকের কয়েকটি ম্যাচে গ্যালারি কিছুটা ফাঁকা ছিল, তবে টুর্নামেন্ট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি কানায় কানায় পূর্ণ করে স্টেডিয়ামগুলোকে। শেষ পর্যন্ত টিকিটের চড়া দাম ও বাড়তি ম্যাচের সমন্বয়েই ফিফা গড়েছে এই বিপুল আয়ের নতুন রেকর্ড।