মাথার পেছনের অংশ ক্ষতবিক্ষত! হামলার বীভৎসতা ধরা পড়েছে ছবিতে
ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হামামির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর খুলি মারাত্মকভাবে ফেটে গিয়েছিল। প্রচুর রক্তপাতও হয়। অস্ত্রোপচার করে খুলির বসে যাওয়া অংশ ঠিক করা হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ে হামলার শিকার ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের মাথার সেই ক্ষতস্থানের ছবি এবার প্রকাশ পেয়েছে। খুলিতে রয়েছে বীভৎস ফাটার দাগ, যা দেখে শিউরে উঠেছেন অনেকে। সাহসিকতার জন্য মঙ্গলবার স্মিতকে সংবর্ধনা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। স্মিতের মাথার ক্ষত দেখে চমকে উঠেছিলেন খোদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। স্মিতকে তিনি বলেছেন, ‘‘দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। লড়াই করার প্রশিক্ষণ দেব আপনাকে। দু’জনে মিলে জু-জিৎসু-র সেশন করব।’’ জু-জিৎসু হলো একধরনের মার্শাল আর্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় খেলা।
উল্লেখ্য, সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হামামির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর খুলি মারাত্মকভাবে ফেটে গিয়েছিল এবং প্রচুর রক্তপাত ঘটেছিল। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুলির বসে যাওয়া অংশ ঠিক করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, স্মিতের মস্তিষ্কের ক্ষত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে যেকোনো মুহূর্তে তাঁর মৃত্যু হতে পারত। বিমান যখন মাঝআকাশে ছিল, ঠিক সেই সময়ই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ফলে ওই সময়ে যে পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়েছিল, তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতিকেও তিনি জয় করেন। এরপর দ্বিতীয় ঝুঁকি আসে অস্ত্রোপচারের টেবিলে।
সূত্রের খবর, স্মিতের বসে যাওয়া খুলির অংশ ঠিক করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, তাঁর যাতে আর রক্তক্ষরণ না হয়, তা চিকিৎসকদের কাছে ছিল আরেকটি বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা স্মিতের খুলির পুনর্গঠন করতে সফল হন। তবে এ যাত্রাতেও মৃত্যুকে জয় করেন স্মিত। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যেভাবে স্মিতের খুলির হাড় ফেটে গিয়েছিল, তাতে মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তবে সব বিষয় ও সম্ভাবনা যাচাই করার পর অস্ত্রোপচার সফল হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ওড়ার পর আড়াই ঘণ্টা সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। বিমানটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে, তখন ককপিটে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, বিমানটিকে নিচে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ওই সময় বিমানে ক্রু সদস্যসহ মোট ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্মিতের মাথা ও পেট রক্তাক্ত হলেও তিনি শেষ শক্তি দিয়ে সহ-পাইলটকে প্রতিহত করার লড়াই চালিয়ে যান।