পাঁচ নারীর জীবনসংগ্রাম নিয়ে আসছে নতুন ছবি ‘পরশমণি’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ এএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ এএম
Main News Image

সমাজ, নষ্ট হওয়া সম্পর্ক কিংবা নানা অবিচারের বিরুদ্ধে এবার গানের সুরে প্রতিবাদ জানাতে আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘পরশমণি’। পরিচালক গুল বাহার সিংয়ের পরিচালনায় এই ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হবে পাঁচ নারীর স্বাধীনতা, আত্মোপলব্ধি ও ভালোবাসার নানা রঙের গল্প। প্রতীক বাসওয়ানির প্রযোজনায় নির্মিত হতে চলা এই সিনেমাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিনেপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ছবিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রীতমা মিত্র, রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কিতা ব্রহ্ম, ঐশিকী ঘটক, অদিতি বিষ্ণু, ইপ্সিতা নাগ, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও কৌশিক সেনের মতো পরিচিত মুখেরা।

ছবির মূল প্রেক্ষাপট:

নারীর স্বাধীনতা, মুক্তি, ক্ষমতায়ন এবং নিজেদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান—এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ‘পরশমণি’র চিত্রনাট্য। পাশাপাশি নারী জীবনের বন্ধুত্ব, প্রতিবাদ ও ভালোবাসার নানা সূক্ষ্ম অনুভূতিও নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হবে পর্দায়। জীবনসংগ্রাম, স্বপ্নভঙ্গ, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজেদের শর্তে মাথা উঁচু করে বাঁচার আকুতিই এই ছবির মূল সুর। ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ এর সংগীত পরিচালনা। সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋজু রায় এবং চন্দন রায়চৌধুরী—এই তিন গুণী শিল্পী যৌথভাবে ছবিটির গানের দায়িত্ব নিয়েছেন।

মধ্যবিত্তের গল্প ও ব্যান্ডের জন্ম:
ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের পাঁচ জন শিক্ষিত তরুণীকে ঘিরে। জীবনের নানা বাঁকে এসে তাদের প্রত্যেককেই কোনো না কোনোভাবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক অবিচার, শোষণ কিংবা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব বঞ্চনা তাদের মনে জন্ম দেয় ক্ষোভ ও অভিমান। তবে সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে একটাই—সংগীতের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসা।

এই ভালোবাসাকে সম্বল করেই তারা সবাই মিলে গড়ে তোলে একটি মিউজিক্যাল ব্যান্ড, যার নাম রাখা হয় ‘পরশমণি’। তাদের গান ধীরে ধীরে শ্রোতাদের মাঝে জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। মঞ্চের আলো, দর্শকের উন্মাদনা আর সংগীতের জাদুকরি শক্তিকে সঙ্গী করে তারা একে একে ফিরে পেতে থাকে তাদের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ও স্বতন্ত্র অস্তিত্ব।

গল্পের টুইস্ট ও সম্পর্কের টানাপড়েন:
ছবির গল্পে রয়েছে চমৎকার এক নাটকীয় মোড়। একসঙ্গে পথচলার শুরুতে ব্যান্ডটির পাঁচ সদস্য নিজেদের মধ্যে একটি কঠিন শর্ত বেঁধে দেয়—কেউ প্রেমে পড়বে না, বিয়ে করবে না কিংবা কোনো সম্পর্কের জন্য নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বিসর্জন দেবে না। কিন্তু মানুষের তৈরি নিয়মে কি হৃদয়ের অনুভূতিকে আটকে রাখা সম্ভব? ভালোবাসার মতো চিরন্তন আবেগ কি কোনো শর্ত বা নিয়ম মানতে জানে?

এই দ্বন্দ্ব ও প্রশ্নগুলোকে ঘিরেই এগোতে থাকে ‘পরশমণি’র চিত্রনাট্য। যেখানে প্রতিবাদের পাশাপাশি রয়েছে গভীর আবেগ, বন্ধুত্বের সমীকরণের ভেতর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং স্বাধীনতার মোহময় আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ভালোবাসাকে নতুন করে আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

সঙ্গীতই যেখানে প্রধান চরিত্র:
‘পরশমণি’র গল্পে গান বা সংগীত নিছক কোনো অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি ছবির একটি প্রধান চরিত্র। পাঁচ নারীর ব্যক্তিগত লড়াই, যৌথ সাফল্য, আবেগ এবং আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংগীত ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

খবর অনুযায়ী, গত অক্টোবরের শেষ দিক থেকেই ছবিটির শুটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসছে ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।