নাসরীন জাহানের ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’ উপন্যাসের প্রচ্ছদ উন্মোচিত হলো

হেরাল্ড প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ এএম
Main News Image

বাংলা কথাসাহিত্যের জগতে একটি জ্বলজ্বলে নাম-নাসরীন জাহান। এই নন্দিত কথাশিল্পীর গল্প-উপন্যাসে মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্কের জটিলতা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রতিফলিত হয়। বাস্তবতার পাশাপাশি পরাবাস্তবতা ও জাদু বাস্তবতাও মূর্ত হয়ে ওঠে। রূপকথা ও মিথের ব্যবহারে ঈষণীয় দক্ষতা তাঁর।

শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে নাসরীন জাহানের নতুন উপন্যাস 'ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি'। এই উপন্যাসটির নান্দনিক প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন আনিসুজ্জামান সোহেল।

শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডিস্থ বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত হলো নাসরীন জাহানের প্রকাশিতব্য উপন্যাস 'ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি'-র প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠান।

এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন খ্যাতিমান সাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই। নাসরীন জাহানের সাহিত্যসৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কথাশিল্পী ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক পারভেজ হোসেন এবং গল্পকার সেলিম মোরশেদ। বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে নাসরীন জাহানের সমগ্র সাহিত্যকীর্তির বৈশিষ্ট্য। এছাড়া নিজের লেখা নিয়ে কথা বলেন দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত নাসরীন জাহান।

বইটির প্রকাশক সংস্থা ‘অন্যপ্রকাশ’র প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, নাসরীন জাহানের গল্প-উপন্যাসে মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্কের জটিলতা, বাস্তবতা ও পরাবাস্তবতার মিশেল এবং রূপকথা ও মিথের ব্যবহার বিশেষভাবে উঠে আসে। তার নতুন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’তেও এসব বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

হাসনাত আবদুল হাই বলেন, ‘নাসরীন জাহানের জীবন থেকে তার লেখালেখিকে আলাদা করে দেখা যায় না। তবে তার জীবনযাপন আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে। তিনি জীবনকে উৎসবের মতো যাপন করেছেন। অসুস্থতা তার জীবনযাপনের গতি কিছুটা কমিয়ে দিলেও এর বৈশিষ্ট্য বদলাতে পারেনি। তিনি এখনো প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল ও কৌতুকপ্রিয়। দুই বছর ধরে কঠিন অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নাসরীন জাহান। কখনো হাসপাতালে, কখনো বাড়িতে তাকে সময় কাটাতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসার মধ্যেও মনের শক্তি ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক থাকা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু নাসরীন সেই কঠিনকে সহজ, অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাসরীন জাহানের জীবন ও সাহিত্যকর্ম কেন্দ্র করেই আজকের আয়োজন। উপন্যাসের প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষ উপলক্ষ হলেও এর পরিসর আরও বিস্তৃত। এ আয়োজনে নাসরীন জাহানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটেছে।’

পারভেজ হোসেন বলেন, ‘নাসরীনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য তার প্রথম দিকের বইগুলোতেই স্পষ্ট ছিল। পরবর্তী সময়ে পরাবাস্তব বা সুররিয়াল ধারায় গেলেও এসব অভিধা দিয়ে নাসরীনকে চেনেন না তিনি।’ তিনি বলেন, ‘নাসরীন যে জীবনযাপন করেন, দেখেন ও কল্পনা করেন, তার অন্তরালে থাকা আরেকটি জীবন তিনি খুঁজে পান। সেই জীবনকে লেখায় তুলে ধরতে গিয়ে তার সমগ্র সত্তা লেখার সঙ্গে মিশে যায়। নাসরীনের সাহিত্যের বিশেষত্ব হলো চরিত্রের দৃশ্যমান জীবনের পাশাপাশি তার অন্তরালের জীবনও তিনি তুলে ধরতে চান। এ প্রচেষ্টায় তার বড় সাফল্য রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে নাসরীন জাহান বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে লিখতে গিয়ে বুঝেছি লেখালেখি ও মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকাই আমার বেঁচে থাকার পথ।’ নিজেকে ‘নারীবাদী ঔপন্যাসিক’ বলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীবাদ নয়, মানুষ জেগেছে। মানুষ জাগলে নারীকে আলাদা করে জাগতে হয় কেন?’

নারীর পরিচয় ও পদবি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘পুরুষেরা বাবা-মায়ের পদবি বহন করবে, নারী পারবে না এটা কোনো কথা? বিয়ে করে নিজের পরিচয় হারানোর কোনো দরকার নেই।’ নিজের লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার লেখার কাটাকাটি, বানান ও শব্দচয়ন সব আমি নিজেই করি। প্রয়োজনে নিজের মতো শব্দও তৈরি করি।’

মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নাসরীন জাহান দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যের সাধনা করে চলেছেন। তিনি অন্যপ্রকাশের অত্যন্ত আপন একজন মানুষ এবং অন্যদিনের সাহিত্য সম্পাদক। অন্যপ্রকাশ থেকে তার অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। নিরলসভাবে সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি যে নিষ্ঠা ও নিবেদনের পরিচয় দিয়েছেন, ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসী’ উপন্যাস তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে আশা করি।’

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানটি। উপন্যাসটির নান্দনিক প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন আনিসুজ্জামান সোহেল।